খেলতে খেলতে অসুস্থ সাকিব আল হাসান। হাসপাতালে চোখ খুলে দেখেন পাশে প্রধানমন্ত্রী দাঁড়ানো। দুই স্বর্ণ কন্যা মাবিয়া আর শিলার মাথায় ছাদ নেই। প্রধানমন্ত্রী ছায়া দিলেন এই দুই অ্যাথলিটকে। মেহেদী মিরাজকে বাড়ি, আর নারী ফুটবলারদের প্রত্যেকের হাতে দশ লাখ টাকার চেক তুলে দিয়েছেন শেখ হাসিনা। এমনকি সাবেক ফুটবলার অসুস্থ বাদল রায়কে তাৎক্ষণিক সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার জন্য পাঠানো। একজন প্রধানমন্ত্রী কতই না মমতাময়ী, স্নেহশীল। অথচ সেই ক্রীড়া প্রেমী প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অসত্য, ন্যাক্কারজনক মন্তব্য করেছেন বাফুফের নারী কমিটির চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ।
একটি বেসরকারি টেলভিশনের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের প্রথম পর্বে এমন চিত্রই ফুটে উঠেছে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্রীড়া অঙ্গনের প্রতি কতটা আন্তরিক, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। অন্য সব ইভেন্ট এর মত বাংলাদেশের মেয়ে ফুটবলারদের প্রতি তার ভালোবাসাও তুলনাহীন। ২০১৮ সালে মেয়ে ফুটবলারদের ডেকে নিয়ে সংবর্ধনা দিয়েছেন ২ বার। প্রতিটি মেয়ে ফুটবলের হাতে তুলে দিয়েছেন ১০ লাখ টাকার চেক।
এই মেয়ে ফুটবলারদের কল্যানে প্রধানমন্ত্রীর সাথে বার বার দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন বাফুফের মহিলা কমিটির প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণ।
এই সংবর্ধনার কিছুদিন আগেই ক্রীড়াপ্রেমী এই প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অসত্য বক্তব্য দিয়েছিলেন আলোচিত-সমালোচিত এই নারী সংগঠক।
সবাইকে হতবাক করা কিরণের ওই বক্তব্যে বলতে শোনা যায়, ’সে তো কারও ব্যক্তি পিএম (প্রধানমন্ত্রী) না। কাজেই পিএম (প্রধানমন্ত্রী) যদি সবার হয় তাহলে সব খেলাই তো তার কাছে সমান। কেন দুই চোখে দেখবে। এই যে মেয়েরা ব্যাক টু ব্যাক চ্যাম্পিয়ন হয়ে আসছে একটা দিন কনগ্রেচুলেশন জানাইছে। গিফট তো পরের কথা, বলেন মিডিয়াতে একটা কনগ্রেচুলেশন জানাইছে কিনা? বিএফএফ যেটা করে কম্পিলিটলি সেটাই করবে। প্রাইম মিনিস্টারের যদি এদের প্রতি কোন দায়িত্ববোধ না থাকে? তাহলে বিএফএফের টাকা কেন প্রাইম মিনিস্টারের হাত দিয়ে দেওয়া হবে। বিসিবির পিএমের (প্রধানমন্ত্রী) সাথে অনেক কিছু স্বার্থ আছে। কারণ বিসিবি সব ফেসালিটিস গর্ভমেন্টের কাছ থেকে নেয়। ফুটবল ফেডারেশন সেটা নেয় না। বিসিবি একটা চুন থেকে পান খসলে সেটার জন্য একটি প্লট হয়ে যায়। একটা গাড়ি পেয়ে যায় ওদের প্লেয়ার’
প্রধানমন্ত্রীর নামে এই অসত্য বক্তব্য দেওয়ার আগেই ২০১০ সালে সুলতানা কামাল মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে ১৫ ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালনের জন্য টানানো ব্যানার কিরণের নির্দেশে ছিঁড়ে ফেলা হয়েছিল কিরণ।
ব্যানার খোলা নিয়ে কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান বলেন, ’মহিলা ক্রীড়া সংস্থার কিরণ আপার নির্দেশে ব্যানারটি খুলে ফেলেছে। সে সময়ে মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সেক্রেটারি ছিলেন তিনি।’
সরকারি নথিপত্র ঘাটাঘাটি করে জানা গেছে, ৯ বছর আগে ব্যানার খুলে ফেলা ইস্যুতে তোলপাড় হয়েছিল ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। তদন্তে নেমেছিল বর্তমান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল নেতৃত্বাধীন তৎকালীন সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। ২০১০ সালে ২৮ সেপ্টেম্বর এনএসসির তদন্ত কমিটির রিপোর্টে পরিষ্কার উল্লেখ করা হয় জাতীয় শোক দিবসের ব্যানার খুলে ফেলার দায়ে মাহফুজা আক্তার কিরণ দায়ী।
এ ব্যাপারে বাফুফের সহ সভাপতি বাদল রায় বলেন, ’উনি বিতর্কিত মহিলা তো ভাই। সে একটা ব্যানার নিয়ে আমাদের এনএসসির কর্মচারীদের সাথে একটা ইয়ে হইল, সেটা নিয়া সে মন্ত্রীর পদত্যাগ চাইল, উমুক চাইল, তমুক চাইল, একটা ব্যানার উপরে আরেকটা ব্যানার লাগাইবা কেন তুমি। তুমি কে? তাও বঙ্গবন্ধুর ব্যানার সরাইয়া। এত বড় উত্যক্ত আচরণ কোথা থেকে হয়েছে তোমার। আমি তাকে প্রশ্ন করেছিলাম?’
শুধু তাই নয় মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদিকা থাকাকালে তার কর্মকান্ডে অতিষ্ট ছিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। আর সে কারণেই তৎকালীন এনএসসি চেয়ারম্যান আহাদ আলী সরকার ঐ সময়কালীন নির্বাচিত কমিটি ভেঙে অ্যাডহক কমিটি দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। মহিলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে আশ্রয়স্থল হিসেবে বেছে নেন কিরণ।
এই প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্বে থাকবে মেয়েদের ফুটবল কে পুঁজি করে কিভাবে কিরণ বাফুফে নিজের অবস্থানকে শক্ত করে গুছিয়ে নিচ্ছেন আখের।

সূত্র:বিডি২৪লাইভ