আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে হটাতে জোরালো কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ।
সেই কর্মসূচি ’উপযুক্ত’ সময়ে ঘোষণা হবে জানিয়ে সে পর্যন্ত দলের নেতা-কর্মীদের ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

শনিবার এক আলোচনা সভায় মওদুদ বলেন, "তাদের (সরকার) কোনো ভবিষ্যৎ নাই। কিছুদিন অপেক্ষা করেন, একটু ধৈর্য ধরেন।

"উপযুক্ত সময়ে উপযুক্ত কর্মসূচি দেওয়া হবে এবং সেই কর্মসূচি কঠোর কর্মসূচি হবে। এটা কোনো নরম বা ওই ভদ্রলোকের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি হবে না।"

বিএনপির আন্দোলনের সামর্থ্য নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের প্রশ্ন তুলে আসার মধ্যে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ’নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম’র আলোচনা সভায় কঠোর আন্দোলনের এই হুঁশিয়ারি দেন মওদুদ।

নির্দলীয় সরকারের অধীনে না হওয়ায় ২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে ভোট ঠেকানোর ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি। টানা হরতাল-অবরোধ চালিয়ে গেলেও সফল হয়নি আন্দোলন। তারপরের বছর আবার সরকার পতনে টানা ৯০ দিন হরতাল-অবরোধ চালিয়েছিল বিএনপি।

পরপর দুই বছর বিএনপির আন্দোলনে সরকারের পরতন না ঘটলেও নাশকতায় বহু মানুসের মৃত্যুর কারণে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল বিএনপি।

সেই প্রেক্ষাপটে এবার দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পরও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছে বিএনপি।

এই অবস্থা থেকে দিক বদলের কারণ ব্যাখ্যা করে মওদুদ বলেন, "কারণ আমরা জানি কোনো ফ্যাসিবাদ সরকারকে, কোনো স্বৈরাচারী সরকারকে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে উৎখাত করা যায় না। পৃথিবীর কোথাও সম্ভবপর হয়নি, আমাদের দেশেও অতীতে হয়নি।"

নির্বাচন সুষ্ঠু করতে নির্দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠার দাবি পুনরায় তুলে ধরে এজন্য সংবিধান সংশোধন করতে সরকারকে আহ্বান জানান তিনি।

মওদুদ বলেন, "সংবিধান মানুষের ঊর্ধ্বে নয়।"

মাদকবিরোধী অভিযানে সারাদেশে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযান বন্ধের দাবি জানিয়ে মওদুদ বলেন, "জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংগঠন থেকে এটা বন্ধের জন্য বলা হয়েছে। এমনকি তাদের (ক্ষমতাসীন) বুদ্ধিজীবীরা বলছেন, এটা বন্ধ করা দরকার।

"এই অভিযানের আরেকটি দিক হচ্ছে পুলিশের একটি অংশ বিভিন্ন মানুষের ভয়ভীতি দেখিয়ে বলছে তোমার বিরুদ্ধে মামলা দেব বা তোমাকে গুলি করে মারব। এসব কথা বলে তার কাছ থেকে টাকা আদায় হল মাদক বিরোধী অভিযানের আরেকটি বৈশিষ্ট্য।"

কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে বিশেষায়িত হাসপাতালে নিয়ে সুচিকিৎসার দাবিও জানান মওদুদ।

নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরামের উপদেষ্টা হাজী মো. মাসুক মিয়ার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এম জাহাঙ্গীর আলমের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, উলামা দলের সাধারণ সম্পাদক শাহ নেসারুল হক বক্তব্য রাখেন।

সূত্র:বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর