বেশ আয়োজন করেই বিয়ে করতে এসেছিলেন দেবদীপ পাল। কনের বাড়িতে পৌঁছতেই বরকে ঘিরে ভিড় করলেন ’আত্মীয়েরা’। বলা হলো, ’কনেবাড়ির আচার মেনে বরের পোশাক বদলাতে হবে’। বর এবং বরের বাবাকে নিয়ে তোলা হলো গাড়িতে। গাড়ি সোজা গিয়ে থামল থানায়। এভাবেই পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া বরাবাজার থানার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন বিয়েপাগল প্রতারক এবং তার বাবা। আত্মীয়ের বেশে বিয়েবাড়িতে হাজির ছিলেন পুলিশকর্মীরাই। বর্তমানে ৭ দিনের রিমাণ্ডে আছেন দেবদীপ।
পাত্রীর বাবা জানিয়েছেন, একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের ঘটকালির ওয়েবসাইটে মেয়ের জন্য পাত্রের সন্ধান করছিলেন। ২০১৮ সালের জুলাইয়ে দেবদীপের পরিবার তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। খোঁজ নিতে দুর্গাপুরে পাত্রের বাড়িতেও গিয়েছিলেন তারা। পাত্রীর বাবা বলেন, ’তাদের ব্যবহারে মুগ্ধ হয়েছিলাম। ছেলে দুবাইয়ে মোটা মাইনের চাকরি করে। ইন্ডিয়ান স্কুল অব মাইনস-এ পড়েছে। বিয়ের কথা পাকা হয়ে যায়। বিয়ের দিন স্থির হয় চলতি বছরের ৮ মার্চ।’

বিয়ের ঠিক আগের দিন, গত বৃহস্পতিবার পাত্রীর বাড়িতে দাদাকে নিয়ে হাজির হন উত্তর চব্বিশ পরগনার ইছাপুরের এক তরুণী। তিনি দাবি করেন, তার সঙ্গে দেবদীপের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। কয়েক দিন আগে তিনি খবর পান, দেবদীপ বিয়ে করছেন। তরুণী দাবি করেন, চেপে ধরায় দেবদীপ তাকে বলেন, বাড়ির চাপে বিয়ে করছেন। অল্প দিনের মধ্যেই বিবাহ বিচ্ছেদ চাইবেন।

ইছাপুরের মেয়েটির কাছে পাত্রীর পরিবারের ফোন নম্বর ছিল না। শুধু মেয়ের বাবার নাম আর ’বরাবাজার’ ঠিকানা জানতেন। মেয়েটির দাদা বলেন, ’দেবদীপকে বিশ্বাস করে আমার বোন ভুল করেছিল। কিন্তু আর একটা মেয়ে যাতে না ঠকে, সে কথা ভেবে বরাবাজারে চলে আসি।’

এরপর ইছাপুরের তরুণীকে নিয়ে থানায় যান পাত্রীর বাবা। সম্পর্কের ’প্রমাণ’ হিসেবে পুলিশের কাছে দেবদীপের কথাবার্তার রেকর্ড ও কিছু ছবি জমা দেন সেই মেয়েটি। দেবদীপ ও তার বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন পাত্রীর বাবা। এর পরেই পাত্রীর বাবা ফোনে আমন্ত্রিতদের জানিয়ে দেন, ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের মৃত্যুর জন্য বিয়ে হচ্ছে না। পাত্রপক্ষকে কিছু জানানো হয়নি। শুক্রবার দুপুরে বরযাত্রী নিয়ে পাত্রের ঠাঁই হয় কারাগারে। পরে বরযাত্রীদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

সূত্র:আনন্দবাজার/বিডি২৪লাইভ