সমগ্র দেশ জুড়ে মুজিববর্ষের শততম বার্ষিকী উদযাপনের অয়োজন করছে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগ। এই বর্ষ উদযাপনের জন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহন করছে দলটি। শেখ মুজিবর রহমান বাংলাদেশের একজন সফল নেতা। এবং তিনি বঙ্গবন্ধু উপাধিতেও ভূষিত। তিনি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। সংগ্রামী ও ত্যাগী নেতা হিসাবে বাংলাদেশের মানুষের কাছে শেখ মুজিবর রহমানের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে।
পকেট কমিটি করে আওয়ামী লীগকে দুর্বল না করতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ’পকেটের লোকদের নিয়ে কমিটি করলে আওয়ামী লীগ সুবিধাবাদীদের হাতে চলে যাবে। মশারির ভেতর মশারি টানাবেন না। আমাদের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হবে। এ কারণে ত্যাগী নেতাকর্মীদের নিয়ে আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজাতে হবে।’

রবিবার (১ মার্চ) দুপুরে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ’দেশের মানুষ পাঁচবারের দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বিএনপিকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। কিন্তু বাংলার বাতাসে আবারও চক্রান্তের গন্ধ। শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে যাচ্ছে অশুভ শক্তি। নির্বাচনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি চক্রান্ত করে সরকার হটানোর ষড়যন্ত্র করছে। এই অপশক্তিকে প্রতিহত করতে হবে। বাংলাদেশে আর যেন কোনও দিন সাম্প্রদায়িক শক্তি, অন্ধকারের শক্তি ক্ষমতায় না আসতে পারে সে জন্য আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ’কেন জানি মাঝে মাঝে মনে হয় আওয়ামী লীগে কর্মী কমছে, নেতা বাড়ছে। আমাদের এত নেতা দরকার নেই। আমাদের সাচ্চা কর্মী দরকার। মঞ্চের দিকে তাকালেই বোঝা যায় যে কত নেতা! নেতার অভাব নেই। বিলবোর্ডে সুন্দর সুন্দর ছবি দেখবেন, লোকে চেনেও না! উনি বিলবোর্ডে উজ্জ্বল। এসব দেখতে পাওয়া যায়।’ সেতুমন্ত্রী বলেন, ’আমরা মুজিববর্ষে আওয়ামী লীগে সুবিধাভোগীদের জায়গা দেব না। নেতা হতে হলে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হবে। মনে রাখতে হবে ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হয়ে ভোগের লিপ্সা ত্যাগ করে আমাদের সত্যিকারের মুজিব সৈনিক হতে হবে। বঙ্গবন্ধুর রেখে যাওয়া আদর্শের পতাকা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।’

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের আবারও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। আবারও সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ডাবলু সরকার। সদ্য বিলুপ্ত কমিটিতেও তারা এই পদে ছিলেন। রবিবার দুপুর ২টায় রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে লিটন-ডাবলুর নাম ঘোষণা করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক এই সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়। রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন।

উল্লেখ্য, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল রয়েছে। এবং বাংলাদেশের সরকারের দায়িত্ব পালন করছে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগ। সমাজে এই দলের অনেক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। দলকে সকল অভিযোগ মুক্ত করার জন্য বিশেষ ভাবে কাজ করছে দলের সিনিয়র নেতাকর্মীরা। দলের মধ্যে অপরাধের সঙ্গে জড়িত নেতাকর্মীদের শাস্তির সম্মুখীন করতে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহন করেছে আওয়ামীলীগ দল। এবং জনগনের মাঝে আওয়ামীলীগ দলের প্রতি আস্থা অর্জনের জন্য সকল ধরনের দলীয় অপরাধীদের নির্মূলের জন্য সোচ্চার ভূমিকায় রয়েছে দলটি।