বাংলাদেশে অনেক রাজনৈতিক দল রয়েছে। এই সকল রাজনৈতিক দলের মধ্য জাতীয় পার্টি একটি দল। সংক্ষেপে এই দলকে জাপা বলেও অভিহিত করা হয়ে থাকে। এই জাতীয় পার্টি দলের প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশের সাবেক সেনাপ্রধান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির ও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এবং বর্তমান সময়ে এই জাতীয় পার্টীর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন গোলাম মোহাম্মদ কাদের।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি তার কর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, সকল ক্ষেত্রেই স্মরণ রাখতে হবে নেতা কখনোই ভুল করতে পারে না। এটা মনে রেখেই নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে হবে। তবেই রাজনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে জাতীয় পার্টিতে যোগদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে রাজধানীর হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের সাবেক ভিপি কিশোর কুমার দে ও জিএস এ এফ এম মোর্শেদ সবুজ জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের হাতে ফুল দিয়ে পার্টিতে যোগ দেন।

জি এম কাদের এমপি বলেছেন, দেশের প্রধান তিনটি দলের মধ্যে জাতীয় পার্টি সবচেয়ে সম্ভবনাময় দল। দেশের মানুষ বিশ্বাস করে দেশের কল্যাণে কাজ করার ক্ষমতা শুধু জাতীয় পার্টির রয়েছে। তাই প্রতিদিনই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ জাতীয় পার্টিতে যোগ দিচ্ছেন। নেতৃত্বের প্রতি অবিচল আনুগত্য না থাকলে রাজনীতিতে ভালো কিছু আশা করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আরও বলেন, কারও অবদানকেই জাতীয় পার্টি ছোট করে দেখে না। দলের প্রতি যাদের ত্যাগ ও অবদান রয়েছে তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। এছাড়া তিনি দলকে সুশৃখল এবং ঐক্যবদ্ধ করতে নেতা-কর্মীদের প্রতি আহবান জানান। উল্লেখ্য কিশোর কুমার দে ও এ এফ এম মোর্শেদ সবুজ উভয়ই জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) গ্রুপের যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। এসময় জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির নব-নির্বাচিত নেতৃবৃন্দ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের-এর হাতে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এসময় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা করেন।

এসময় বক্তব্য রাখেন কো-চেয়ারম্যান জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, অতিরিক্ত মহাসচিব সাহিদুর রহমান টেপা, রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, উপদেষ্টা শাহ-ই আজম। আরও উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা মো. নোমান, হাসিবুল ইসলাম জয়, মনিরুল ইসলাম মিলন, জহিরুল আলম রুবেল, শাহ-ই আজম, ভাইস চেয়ারম্যান- সুলতান আহমেদ সেলিম, যুগ্ম মহাসচিব- মো. নোমান মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক- মো. হেলাল উদ্দিন, হুমায়ুন খান, সাইফুল ইসলাম, সৈয়দ ইফতেকার আহসান হাসান, লিয়াকত হোসেন চাকলাদার, দফতর সম্পাদক সুলতান মাহমুদ, প্রচার সম্পাদক- মাসুদুর রহমান মাছুম, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মিন্টু, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক এম এ রাজ্জাক খান, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান মিরু, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মো. জামাল উদ্দিন, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম, যুগ্ম ক্রিড়া সম্পাদক ইয়াসির মেজবাহ, যুগ্ম স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. আব্দুল্লাহ আল ফাত্তাহ।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৮ সালের ৩০শে ডিসেম্বর। এই নির্বাচনে অংশগ্রহন করে জাতীয় পার্টি। এবং এই নির্বাচনে জয় লাভ করে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগ। এবং এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বর্তমান সময়ে সংসদে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ দলের বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছে জাতীয় পার্টি দল। এবং বর্তমান সময়ে জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যানশিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রয়াত হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের স্ত্রী।