বর্তমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে উন্নয়নের লক্ষ্য বিশেষ ভাবে কাজ করছেন। তিনি পর পর তিনবার সরকারের দ্বায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ এখন প্রতিষ্ঠিত। প্রযুক্তি ক্ষেত্রেও এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বিশ্বের সথে তাল মিলিয়ে চলছে বাংলাদেশ। স্বল্প সময়ে বাংলাদেশের এমন উন্নয়ন ইতিহাসের মাইলফলক হয়ে রয়েছে।
ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ক্ষমতা ভোগের বিষয় নয়, জনগণের সেবা করার মানসিকতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করার বিষয়। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগে বিসিএস প্রশিক্ষণ একাডেমিতে ১১৩, ১১৪ ও ১১৫তম আইন ও প্রশাসন কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদ বিতরণ করেন তিনি।

এ সময় বিসিএসের নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যেকোনো ক্ষেত্রে জ্ঞানের উৎকর্ষতা অর্জনের জন্য প্রশিক্ষণ অপরিহার্য। প্রজাতন্ত্রের সেবক হিসেবে আত্মবিশ্বাসের পাশাপাশি আত্মসমালোচনা ও আত্মশুদ্ধির তাগিদ দেন তিনি। একই সঙ্গে সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে বিসিএস কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রের নির্বাহী প্রধান। বাংলাদেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করার পাশাপাশি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তুলতে বর্তমান সরকারের নানা উদ্যোগ ও ভূমিকা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেকোনো কাজে সততাটা সবচেয়ে বড় শক্তি। ঘুষ, দুর্নীতি অনেক সময় সমাজকে নষ্ট করে দেয়। শুধু সমাজ নয়, সব ধরনের কর্মকাণ্ডই ধ্বংস করে দেয়।

স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশ বিনির্মাণে বঙ্গবন্ধুর অবদান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাত্র সাড়ে তিন বছরে যুদ্ধবিধ্বস্ত রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি তৈরি করে গেছেন জাতির পিতা। আজকে বাংলাদেশ বিশ্বে একটা সম্মানজনক জায়গায় আসতে পেরেছে। তার একটাই কারণ, আমরা একটা নীতি-আদর্শ নিয়ে চলেছি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়েই আমরা চলেছি। দেশকে উন্নত করতে আমরা কাজ করছি বিধায় আজকে দেশটা এগিয়ে যেতে পেরেছে। এই চিন্তাটা যদি আমাদের না থাকত, তাহলে আমরা দেশকে উন্নত করতে পারতাম না। কারণ, ক্ষমতাটা আমার দৃষ্টিতে ভোগের বিষয় নয়, এটা হচ্ছে একটা দায়িত্ব পালন করার বিষয়, দেশের মানুষের সেবা করার বিষয়।

২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করার পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রজাতন্ত্রের নবীন কর্মকর্তারা কাজ করলে আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা থাকবে না।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন এর পর থকেই দেশকে স্বংয়সম্পূর্ন এবং শক্তিশলী করার লক্ষ্য অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। অক্লান্ত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আজ এই বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত। এবং বাংলাদেশের বাংলা ভাষাও বিশ্ব দরবারে সম্মানিত ও প্রতিষ্ঠিত। এই সম্মান দেশ ও জাতির জন্য গৌরবের।