এম. এ. মান্নান রাজনীতিবিদ, সাংসদ ও প্রতিমন্ত্রী। তিনি ২০১৯ সাল থেকে বাংলাদেশের পরিকল্পনা মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। এম এ মান্নান ছিলেন তৎকালীন সিএসপি কর্মকর্তা। তিনি কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ এবং চট্টগ্রাম জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক এবং এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এম এ মান্নান ২০০৩ সালে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থা এর চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন শেষে সরকারী চাকরী থেকে অবসর গ্রহণ করেন। আজ রবিবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ’অ্যাসেসমেন্ট অব বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট সিস্টেম’ শীর্ষক এক কর্মশালার আয়োজন করে বিশ্ব ব্যাংক। এই কর্মশালায় পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান কর্মকর্তাদের বলেছেন, সরকারি প্রকল্প কাজে কোনো লুকোচুরি করবেন না। সরকার চাইবে, সরকারের প্রতিটি কাজ জনগণের নজরে আসুক এবং জনগণ সেগুলো পরীক্ষা করুক।
সরকারি ৭০ ভাগ প্রকল্প যথাসময়ে বাস্তবায়ন হয় না। আইএমইডি সচিবের কথার জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, আমরা ব্যথা পাই, যখন শুনি ৭০ ভাগ প্রকল্প যথাসময়ে শেষ হয় না। এটা আমাদের জন্য ভয়ংকর অগ্রহণযোগ্য বিষয়। মন্ত্রী বলেন, আপনারা যারা কাজ করেন। আপনাদের গাড়ির প্রয়োজন, বাসার প্রয়োজন, সেটা জনগণের অর্থ দিয়ে আমরা করে দিই। এর বিনিময়ে আমরা যখন কাজ পাই না, তখন ব্যথা পাই। জনগণের সামনে আপনাদের হয়তো মুখোমুখি হতে হয় না। কিন্তু আমাদের প্রতিনিয়ত মুখোমুখি হতে হয়। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কাজে স্বচ্ছতা আনা হবে বলে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি কাজে জনগণ, সরকারের সৃষ্ট নিয়মকানুনকে প্রতিপালন করে, খোলামেলা পরিবেশে, সবার এক্সেসের মধ্যে সম্পূর্ণ করব। যার ফলে নেতিবাচক যে ধারণা আছে, সময়মতো কাজ হয় না, ঢিলেমি হয়, দুর্নীতি হয় সেগুলো আমরা পর্যায়ক্রমে দূর করতে পারব।

আইএমইডির সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমার অনুরোধ থাকবে, প্রতিটি কাগজ যথাযথভাবে দেখবেন। আমরা চেষ্টা করব বা দেখব, যে অভিযোগটা আসল সেটা যেন মনোযোগের সঙ্গে দেখি। সেটা যেন সমাধানের চেষ্টা করি। কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ও ভুটানে নিযুক্ত বিশ্ব ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মারসি মিয়াং টেমবন, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব আবুল মনসুর ফয়জুল্লাহ, বিশ্ব ব্যাংকের প্রধান প্রকিউরমেন্ট কনসালটেন্ট পিটার আরমিন ট্রেপটি, জ্যেষ্ঠ প্রকিউরমেন্ট স্পেশালিস্ট ইশতিয়াক সিদ্দিকসহ সংশ্লিষ্টরা। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশভাবে জয় পায়।