ঘুষের লেনদেন বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে সমাজে জুলুম নির্যাতন বেড়েই চলে। এতে কারো পদাবনতীর স্থলে পদোন্নতি, আবার কারও পদোন্নতির স্থলে পদাবনতি ঘটে। কোনও ব্যক্তিকে অধিক মর্যাদা দেওয়া হয় আবার কোনও ব্যক্তিকে মর্যাদা একেবারে ক্ষুন্ন করা হয়। মুলত ঘুষের লেনদেন স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায় এবং শান্তি শৃঙ্খলার অবনতি ঘটায়। হৃদয় মন অন্ধকারে নিপতিত হয। কোনও জাতির অভ্যন্তরে এ ব্যধি ছড়িয়ে পরলে এতে সুনীতির পরিবর্তে দূরনীতি আধিক্য বিস্তার লাভ করে। আমানতের পরিবর্তে আত্মসাৎ বেরে চলে নিরাপত্তার স্থলে নিরাপত্তাহীনতা লক্ষ্য করা যায়। বাংলাদেশে যাতায়াত ব্যবস্থার অন্যতম মাধ্যম রেল। আর এই খাতকে ঢেলে সাজাতে বিভিন্ন সময় নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। তারপরেও লোকসানের বৃত্তেই ঘুরপাক খাচ্ছে, সেবাদানকারী এই প্রতিষ্ঠানটি। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে আবারও ২৫৬ কোটি টাকার কারিগরি সহায়তা প্রকল্প হাতে নিয়েছে রেল মন্ত্রণালয়। এর আওতায় বাস্তবায়ন করা হবে ১১টি উপ-প্রকল্প। সম্প্রতি প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্যে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি, বেতন-ভাতা নির্ধারণে বড় ধরণের অনিয়ম পায়। এরপরই ফেরত পাঠানো হয় রেল মন্ত্রণালয়ে।
ক্নিনারের বেতন মাসে ৪ লাখ ২০ হাজার আর অফিস সহায়কের বেতন ৮৪ হাজার টাকা। অবাক হলেও রেলওয়ের কারিগরি প্রকল্পে এমনই অবিশ্বাস্য বেতন ধরা হয়েছে। সম্প্রতি রেল মন্ত্রণালয় থেকে পরিকল্পনা কমিশনে এ প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। আর এই প্রস্তাবকে ’অস্বাভাবিক ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছে পরিকল্পনা কমিশন। তবে রেল মন্ত্রণালয় দাবি করছে, প্রস্তাবনায় ভুল হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের কার্যপত্রে দেখা যায়, প্রকল্পে ক্লিনারের বেতন ধরা হয় মাসে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। আর অফিস সহায়কের বেতন প্রতি মাসে ৮৩ হাজার ৯৫০ টাকা। বিদেশি পরামর্শকদের বেতন মাসে গড়ে ১৬ থেকে ২৫ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। এই প্রস্তাবনাকে গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছে, পরিকল্পনা কমিশন।
এখন এই বেতন-ভাতা নির্ধারণকে নিছক ভুল বলে দাবি করছে রেল মন্ত্রণালয়, বলছে, এটি সংশোধন করা হচ্ছে। শুধুই ভুল নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল, তা তদন্তের দাবি বিশ্লেষকদের। বিশ্লেষকরা বলছেন, দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। পরিকল্পনামন্ত্রী এই বেতন নির্ধারণের প্রস্তাবে অবাক হয়েছেন। পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান জানান, দুর্নীতি বন্ধে প্রকল্প অনুমোদনের আগে গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হয়। প্রকল্পের নামে যারা অনিয়ম করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নেয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। প্রসঙ্গত, ঘুষ প্রবনতা মানুষের অধিকার বিনষ্ট করে সভ্যতা ও সামাজিক সুস্থতা বিনষ্ট করে, নিপিড়ন ও সীমালঙ্ঘন এবং বিপর্যয়ের মাত্রা বেড়ে চলে। এতে সমাজ জীবনে ধ্বংস নেমে আসে, অকর্মন্য আর অযোগ্যরা এগিয়ে যায়, পক্ষান্তরে কর্মঠ ও সৎ লোকেরা পিছিয়ে পড়ে।এতে সত্য বিষয়াদি মিথ্যায় রুপান্তরিত হয় আর মিথ্যাচার ও অসত্য বিসযাদি সত্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।