সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারে ২০১৮ সালের ৩১ আগস্ট কুয়েত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম আব্দুল আহাদ হত্যার মামলায় চার্জশিটভুক্ত ৬ আসামির মধ্যে তিনজনই বিদেশে পালিয়ে গেছে। হত্যাকাণ্ডের আগে পরিকল্পনাকারী ও এক মাসের ব্যবধানে আরও দুইজন দেশ ছাড়ে বলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার এসআই অনুপ কুমার চৌধুরী নিশ্চিত করেছেন। এ ছাড়া সম্প্রতি দাখিল করা চার্জশিটেও তিনি বিষয়টি তুলে ধরেছেন। পাওনা টাকা পরিশোধের কথা বলে ডেকে নিয়ে আহাদকে খুন করা হয় বলে চার্জশিটে উল্লেখ করেন তদন্ত কর্মকমর্তা।
মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলো- দক্ষিণ সুরমার সাধুর বাজারের তারা মিয়ার ছেলে ফখরুল ইসলাম শান্ত, বিয়ানীবাজারের মাথিউরা

বাজারের আব্দুল মালিকের ছেলে মাহমুদুর রহমান লায়েক, গোলাপগঞ্জের উত্তর রায়গড়ের কামরুল হাসানের ছেলে মুরাদ হোসাইন রানা, ফেঞ্চুগঞ্জের কটালপুরের ফিরোজ আহমদের ছেলে বর্তমানে শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতাল স্টাফ কোয়ার্টারের বাসিন্দা সোহেল আহমদ জালাল, বিয়ানীবাজারের চারখাই জালালনগরের ময়নুল হোসাইন চৌধুরীর ছেলে হোসেন মুরাদ চৌধুরী ও সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সূর্যেরগাঁও-এর আশীষ কুমার চক্রবর্তীর ছেলে অভিষেক চক্রবর্তী ওরফে মিথুন। এই ৬ আসামির মধ্যে মূল পরিকল্পনাকারী হোসেন মুরাদ চৌধুরী ২০১৮ সালের ২৩ আগস্ট ওসমানী বিমানবন্দর দিয়ে দেশ ত্যাগ করে। এর আগে ৬ এপ্রিল সে দেশে আসে। অপর দুই আসামির মধ্যে মাহমুদুর রহমান লায়েক এ হত্যাকাণ্ডের পর ১৮ সেপ্টেম্বর ও সোহেল আহমদ জালাল ২৪ সেপ্টেম্বর দেশ ত্যাগ করে। পরে তাদের ফিরে আসার কোনো প্রমাণ পাননি তদন্ত কর্মকর্তা। গত ১৬ মে সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দাখিল করা চার্জশিটে সিরাজুল ইসলাম সুরুকী ও শহিদুল ইসলাম মামুন নামে দুই আসামিকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

মামলা ও চার্জশিট সূত্রে জানা গেছে, কুয়েত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম আব্দুল আহাদ ২০ বছর কুয়েতে ছিলেন। সেখানে বসবাসকালে তার গ্রামের বাড়ির বাসিন্দা হোসেন মুরাদ চৌধুরীর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হয়। বিভিন্ন সময় আহাদের কাছ থেকে মুরাদ টাকা নিয়ে ফেরত দেয়নি। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। ২০১৮ সালের ১৫ আগস্ট আব্দুল আহাদ কুয়েত থেকে দেশে আসেন। অপরদিকে মুরাদও একই সময়ে দেশে আসে এবং আহাদকে হত্যার পরিকল্পনা করে ২৩ আগস্ট কুয়েতে চলে যায়। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী টাকা পরিশোধের কথা বলে ৩১ আগস্ট আহাদকে নগরীর জিন্দাবাজার এলাকায় ডেকে নিয়ে আসা হয়। কিলিং মিশনে অংশ নেয় ৫ জন। জিন্দাবাজার তাঁতীপাড়ার গলির মুখে ছুরিকাঘাত করা হয় আব্দুল আহাদকে। রাত ১১টার দিকে ওসমানী হাসপাতালে মারা যান তিনি। ২ সেপ্টেম্বর নিহতের স্ত্রী রাসনা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।

সূত্র:সমকাল