’পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানের সঙ্গে খোশগল্প করছিলাম। মিজান তাঁর দুঃখের কথা বলতে গিয়ে বলেছিলেন, ডিএমপির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাঁকে নারী কেলেঙ্কারিতে ফাঁসান। আমি বলেছিলাম, ছয় বছর ধরে একই পদে চাকরি করছি, কোনো প্রমোশন নেই। প্রমোশন হলে এখন আমার গাড়ি থাকত। ছেলেমেয়ের যাতায়াতে সুবিধা হতো।’
ঘুষ লেনদেনের অডিও প্রসঙ্গে গতকাল প্রথম আলোকে এসব কথা বলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাসির। তিনি বলেন, সেদিনের খোশগল্পই বিকৃত করে উপস্থাপন করে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।’ডিআইজি মিজানুর রহমানের অবৈধ সম্পদের তদন্ত শুরু করেছিল দুদক। কিন্তু এই তদন্ত করতে গিয়ে দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাসির ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন মিজানুর রহমান। প্রমাণ হিসেবে হাজির করেন এনামুল বাছিরের সঙ্গে কথোপকথনের অডিও রেকর্ড। এনামুল বাসির গত সোমবার বলেছিলেন, অডিও রেকর্ডটি বানোয়াট। তিনি কোনো টাকাপয়সা নেননি। খবর প্রথম আলো

তাহলে অডিওর সঙ্গে আপনার কণ্ঠস্বর মিলছে কি করে—জানতে চাইলে বাসির বলেন, কণ্ঠস্বর নকল করে ফাঁসানো হয়েছে। নকলকারী কাউকে দিয়ে অথবা প্রযুক্তির সাহায্যে এটা তৈরি করা হয়েছে।

তাহলে আপনি কি এখন মিজানের বিরুদ্ধে মামলা করবেন? এমন প্রশ্ন করা হলে বাসির বলেন, ’আমার নিজেরই তো চাকরি নাই। মামলা করব মানে কী।’ এরপর বাছিরের কক্ষে উপস্থিত থাকা দুদক কর্মকর্তাদের বলেন, ’আমাকে বাঁচাও। নিয়ে যাও এখান থেকে।’

ঘুষ লেনদেনের অডিও ফাঁসের ঘটনার পর ডিআইজি মিজানুর রহমানের কাছে তদন্তের তথ্য ফাঁস করার অভিযোগে গত সোমবার খন্দকার এনামুল বাসিরকে সাময়িক বরখাস্ত করে দুদক। ঘটনা তদন্তে গঠন করা হয় কমিটিও।

কী তথ্য ফাঁস করেছিলেন? জানতে চাইলে বাছির বলেন, ’তদন্ত করার সময় মিজান তদন্ত সম্পর্কে জানতে চান। তখন আমি বলেছিলাম, প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।’

বাসিরের বক্তব্যের ব্যাপারে জানতে চাইলে ডিআইজি মিজান বলেন, সব প্রমাণ তাঁর হাতে আছে।

এদিকে দুদক ও পুলিশ কর্মকর্তার ঘুষ লেনদেনের ঘটনায় দুই পক্ষেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলছে, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দুদকের পক্ষে এর দায় কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ’দুদক নিজেই যদি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে না পারে, তাহলে তাদের কার্যক্রমের ওপর জনগণের আস্থা থাকবে কি করে? ব্যক্তির দায় প্রতিষ্ঠান নেবে না, দুদকের এমন অবস্থান আমাদের শুধু হতাশই করেনি বরং আমরা দেশে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ নিয়ে রীতিমতো শঙ্কিত বোধ করছি।’

সূত্র:প্রথম আলো