নির্বাচন ও মানবাধিকার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রকাশিত প্রতিবেদন বাংলাদেশের ’মানুষের মনের কথা’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শনিবার সকালে শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পমাল্য অর্পণের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।

আমীর খসরু বলেন, প্রতিবেদনে তারা (যুক্তরাষ্ট্র) যে কথাগুলো বলেছে সেগুলো জনগণের মনের কথা, বাংলাদেশের মানুষের মনের কথা বলেছে। বিষয়টি আজ সারা বিশ্ব অনুধাবন করতে পারছে, আসলে বাংলাদেশে কী হয়েছে।

কারণ এটা প্রতিফলিত হয়েছে বাংলাদেশের মানুষের চিন্তা-ভাবনায়, এটা প্রতিফলিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রিপোর্টে। বিশ্ববাসী আজ উদ্বিগ্ন। এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারছি যে গণতান্ত্রিকগামী দেশগুলো এখন উদ্বিগ্ন বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে।

সকাল ১১টায় বিএনপি সমর্থিত অ্যাগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-অ্যাবের আহবায়ক রাশিদুল হাসান হারুন ও সদস্য সচিব জি কে মোস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়ার কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।

এ সময় দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, অ্যাবের যুগ্ম আহবায়ক গোলাম হাফিজ কেনেডি, শামীমুর রহমান শামীম, শামসুল আলম তোফাসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রয়াত নেতার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রতিবেদন সম্পর্কে প্রতিক্রিয়ায় জানাতে গিয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের যে রিপোর্ট, এটি সারা বিশ্বের যে গণতান্ত্রিক দেশগুলো আছে তাদের সকলের মত কিন্তু একটাই। তাদের সকলের মত, এই যে নির্বাচন হয়ে গেছে তা বাতিল করুন।

তারা এই নির্বাচনকে শুধু প্রত্যাখান করেনি, পাশাপাশি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে সেই মিথ্যা মামলা তারই প্রতিফলন ঘটেছে এই প্রতিবেদনে, বাংলাদেশে মানবাধিকার যত লঙ্ঘন হচ্ছে তার প্রতিফলন ঘটেছে এই প্রতিবেদনে, বাংলাদেশে বিচারহীনতার যে প্রহসন চলছে সেটা প্রতিফলন ঘটেছে এই প্রতিবেদনে, বাংলাদেশের মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে যে খেলা চলছে তার প্রতিফলন ঘটেছে এই প্রতিবেদনে। বস্তুত পক্ষে বাংলাদেশের যে প্রেক্ষাপট, তারা সঠিকভাবে তুলে ধরেছে।

এটা আমি মনে করে বাংলাদেশের ভাবমর্যাদার জন্য খুবই ক্ষতিকর। একটি দেশের ভাবমর্যাদা যদি এই পর্যায়ে চলে যায় তাহলে বিশ্বের সামনে আমরা একটা বির্বতকর অবস্থায় যাই। সেটা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হলে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

এ সংকট উত্তরণে সকলের একতা জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই চ্যালেঞ্জটা শুধু বিএনপির না এদেশের প্রত্যেকটা নাগরিকের জন্য চ্যালেঞ্জ। দেশের মৌলিক অধিকার তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে, তাদের মালিকানা কেড়ে নেয়ার ফলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এটা বিএনপি জোটের বিষয় নয়, এটা সমস্ত জাতির বিষয়। সকলকে একতাবদ্ধ হতে হবে।

দেশের মালিকানা ফিরিয়ে নেয়ার যে আন্দোলন সেই আন্দোলনে আমাদের জয়ী হতে হবে। আমরা সেদিকে চলছি, দেশ সেদিকে চলছে। আমরা বিশ্বাস অতীতে যেমন মানুষ জয়ী হয়েছে, এবারো জয়ী হবে।

গ্যাসের দাম বৃদ্ধি প্রতারণা
গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রচেষ্টাকে প্রতারণা উল্লেখ করে আমীর খসরু বলেন, গ্যাসের মূল্য বাড়াতে গণশুনানির নাম দিয়ে প্রহসন চলছে, প্রতারণা চলছে। একশ শতাংশ দাম বাড়িয়ে বাংলাদেশের গরীর মানুষ ও মধ্য বিত্ত, নিম্ন মধ্য বিত্ত মানুষের ওপর বোঝা চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে।

এমনিতে গত ১০ বছরে তাদের প্রকৃত আয় কমে গেছে। এ ধরনের মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের ক্রয়ক্ষমতা আরো কমে গেছে। এখন এ ধরনের মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আরো কমে যাবে।

সূত্র:nayadiganta