মির্জাপুরে কুমুদিনী কমপ্লেক্সের ভারতেশ্বরী হোমসে শহীদ দানবীর রনদা প্রসাদ সাহা স্মারক সম্মাননা ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠান শেষে কুমুদিনী পরিবারের আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন শেখ রেহেনা। প্রধানমন্ত্রীর জন্য ৩১ পদের বাঙ্গালি খাবারের আয়োজন করেছিলেন কুমুদিনী পরিবার। কাঁসার থালায় খাবার ও কাঁসার গ্লাসে পানি পান করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
অতিথিদের বিভিন্ন পদের খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করা কুমুদিনী পরিবারের পুরনো ঐতিহ্য। এর আগে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জিকেও এমন আপ্যায়ন করেছিলেন এই পরিবার।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীকে রীতি অনুযায়ী বাঙ্গালিয়ানা খাবার পরিবেশন করা হয় কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজিব প্রসাদ সাহার বাস ভবনে।

শুক্রবার কুমুদিনী পরিবারের পুত্রবধূ ও কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্টের পরিচালক শ্রী মতি সাহা জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের পরিবারেরই একজন সদস্য। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং দানবীর রনদা প্রসাদ সাহা (রায় বাহাদুর) ছিলেন পরম বন্ধু। সুখে দুঃখে এক সঙ্গে দেশের সেবা করেছেন এই দুই মহান ব্যক্তি। দেশীয় দোসর আর রাজাকার আল বদর বাহিনী এই দুই মহান মানবকে হত্যা করেছে। দীর্ঘ দিন পর শেখ হাসিনা আমাদের বাড়িতে এসেছিলেন। তাকে আপ্যায়নের জন্য কোনো কমতি ছিল না।

দুপুরের খাবারের মেনুতে ছিল ভাত, ডাল, আলু ও বিভিন্ন মাছের ভর্তা, শাক, মাছ, মাংস, পোলাও, কোরমা, মুড়ি মুড়কী, বিভিন্ন পিঠা ও কাবাবসহ ৩১ পদের বিভিন্ন খাবার। শেষপাতে ছিল দই, পায়েস। খাবার পরিবেশন করেন কুমুদিনী পরিবারের অন্যতম সদস্য ও একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রতিভা মুৎসুদ্দি, কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্টের পরিচালক সস্পা সাহা।

এ ব্যাপারে কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্টের এমডি রাজিব প্রসাদ সাহা ও পরিচালক শিক্ষা প্রতিভা মুৎসুদ্দি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের বাড়িতে এসেছেন এটা আমাদের জন্য আনন্দের। তাকে আপ্যায়ন করতে পেরে কুমুদিনী পরিবার আনন্দিত। তাদের আপ্যায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহেনা খুবই খুশি হয়েছেন।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহেনা বৃহস্পতিবার ভারতেশ্বরী হোমসে এসেছিলেন পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে। কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গল (বিডি) লি. দানবীর রনদা প্রসাদ সাহা স্মারক সম্মাননা স্বর্ণপদক অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিলেন।

কিংবদন্তীতুল্য রাজনীতি নেতা ও তদানীন্তন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী (মরণোত্তর), বিদ্রোহী ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম (মরণোত্তর), শিল্পী সাহাবুদ্দিন এবং নজরুল বিশেষজ্ঞ ও গবেষক অধ্যাপক রফিকুল ইসলামকে স্মারক সম্মাননা স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর পক্ষে সম্মাননা স্মারক স্বর্ণপদক গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহেনা এবং বিদ্রোহী ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের পক্ষে স্মারক সম্মাননা স্বর্ণপদক গ্রহণ করেন তার নাতনী খিলখিল কাজী।

সূত্র:ইত্তেফাক