আলী রিয়াজ বাংলাদেশী আমেরিকান রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব, বিজ্ঞানী ও লেখক। তিনি ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক হিসেবে ২০০২ সালে যোগ দিয়েছিলেন। তাঁর বেশিরভাগ কাজ ধর্ম এবং রাজনীতির সাথে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি এবং রাজনৈতিক ইসলাম সম্পর্কিত। তিনি দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশী রাজনীতি এবং মাদ্রাসাগুলি নিয়ে ব্যাপক লেখালেখি করেছেন। তিনি এশিয়া বিষয়ক মিডওয়াইস্টার কনফারেন্সের দ্বি-বার্ষিক জার্নাল (২০১০-২০১৫) এ স্টাডিজ অন এশিয়ার সম্পাদক ছিলেন। তিনি ২০১৩ সালের ওয়াশিংটন ডিসিতে উড্রো উইলসন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর স্কলারদের পাবলিক পলিসি শিক্ষক ছিলেন। সম্প্রতি,ক্যাসিনো নিয়ে তিনি বলেন, অবৈধ জুয়া খেলা নিয়ে এখন সারা দেশে চলছে ব্যাপক আলোচনা, উত্তেজনা। ক্যাসিনো থেকে স্পা, বাড়িঘর থেকে ক্লাব কিছুই বাকি থাকছে না যেখানে বস্তা বস্তা টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। ধরপাকড় - চুনোপুটিদের ওপর দিয়েই যাচ্ছে, রাঘব বোয়ালরা কোথায় কে জানে। কিন্তু জুয়া কি কেবল অবৈধ ক্যাসিনোয় খেলা হয়েছে বা হচ্ছে? পুলিশ এবং ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাদের নাকের ডগায়, চোখের সামনে কী করে এইসব করেছে সেই প্রশ্ন করছেন অনেকেই। কিন্তু এর চেয়ে বড় জুয়া খেলা যে আমার-আপনার নাকের ডগায় চলছে, বৈধভাবেই তার কী হবে? এই বৈধ জুয়া খেলা চলছে ক্যাসিনোতে নয়, ব্যাংকিং খাতে। বিশ্বাস না হলে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত নিয়ে আইএমএফ -এর ৬৯ পৃষ্ঠার রিপোর্টের খবর পড়তে পারেন।
ডেইলি স্টারের ২৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, সরকার এতদিন খেলাফী ঋণের যে হিসেবে দিয়েছে আসলে খেলাফী ঋণ তার দ্বিগুন। বাংলাদেশ ব্যাংকের এতদিনের হিসেব ছিল খেলাফী ঋণ ১১২,৪২৫ কোটি টাকা। আই এম এফ বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসেবপত্র ঘেঁটে বলছে এর পরিমাণ হচ্ছে ২৪০,১৫৭ কোটি টাকা। এও এক ধরণের জুয়া খেলাই বটে। হিসেবের এই পার্থক্যটা হচ্ছে এই কারণে যে, অনেক কার্যত খেলাফী ঋণকে বিভিন্ন নামে সাজানো হয়েছে। সরকারের হিসেব অনুযায়ী খেলাফী ঋণ মোট ঋণের ১১ দশমিক ৬৯ শতাংশ বাস্তবে তা ২২ শতাংশের ওপরে। ব্যাংক নামের ক্যাসিনো থেকে যারা এই টাকা নিয়ে গেছেন তারা তা লুকিয়ে তো করেননি। আমার-আপনার সামনেই করেছে। এরা চুনোপুটি তো নয়ই, এমনকি রাঘব-বোয়ালও নয় -রীতি মতো হাঙর মাছ। এদের ধরবে সেই সাধ্য কার?

উল্লেখ্য, রিয়াজ রাষ্ট্র ও সমাজের মধ্যে সম্পর্ক নিয়েও অধ্যয়ন করেছে এবং এ বিষয়ে ব্যাপকভাবে লিখেছেন। তাঁর সহ-রচিত বই, প্যারাডাইজ লস্ট? নেপালে রাজ্য ব্যর্থতা (২০০৭) নেপালের সম্পর্ক পরীক্ষা করে এবং তাঁর বইটি আনফোল্ডিং স্টেট বাংলাদেশের রূপান্তর (২০০৬) প্রথম ২৫ বছরে বাংলাদেশের কাঠামোগত রূপান্তরকে দেখে। প্যারাডাইস লস্ট দেখিয়েছে যে রাজ্যের প্রকৃতি, রাজ্য এবং সমাজের মধ্যে বিভক্তি এবং নেপালের শাসক শ্রেণীর আদর্শিক আধিপত্যের বিচ্ছেদ এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছে যেখানে বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোগুলি ভেঙে ফেলা হচ্ছে এবং রাষ্ট্রটি দ্রুত উদ্ঘাটিত হচ্ছে। অধ্যয়নটি জাতিগততা, পরিচয় এবং বঞ্চনার ভূমিকা বিশ্লেষণাত্মক অসন্তোষ এবং এক শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসাবে মাওবাদীদের উত্থানে বিশ্লেষণ করেছে।