আইনের শিক্ষক, কলামিস্ট ও গবেষক আসিফ নজরুলের মতে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কেবল মাত্র সরকারবিরোধী কিংবা সমাজের দুর্বল অংশের মানুষের দুর্নীতির বিরুদ্ধেই লড়াই করে থাকে। সে কারণে এদের নাম দুদক না হয়ে হওয়া উচিত ’দুদুদক’ (দুর্বলদের দুর্নীতি দমন কমিশন)।
এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে এসব কথা বলেন তিনি। আসিফ নজরুল আরও বলেন, এটা কেবল দুদকের ক্ষেত্রেই যে প্রযোজ্য, তা নয়। সামাজিক অসঙ্গতি, অপরাধ বা দুর্নীতি দমনের জন্য সরকারের আর যে যে সংস্থা রয়েছে তারাও সমাজের ক্ষমতাধর অংশ বা সরকারসংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।

দুদকের মামলায় একজন ভুল ব্যক্তিকে তিন বছর জেলে রাখা এবং তারপর সে বিষয়ে দুদকের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে কথা বলতে যেয়ে আসিফ নজরুল এসব মন্তব্য করেন।

হাইকোর্ট গত রবিবার নিরপরাধ ব্যক্তিটির জেলে থাকার বিষয়ে রায় দিতে যেয়ে দুদককে জিজ্ঞাসা করেন, তারা কি তাহলে আর একটি ’জজ মিয়া নাটক’ তৈরি করতে চেয়েছিল? আদালত বলেন, "এই মামলায় যে ব্যক্তিটির অভিযুক্ত হওয়ার কথা ছিল, আপনারা তাকে বরং সাক্ষী বানিয়েছেন। দুদক যদি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, তাহলেই দেশের নিরবচ্ছিন্ন উন্নয়ন সম্ভব। নয়তো অচিরেই এটি পাকিস্তানের পরিণত হবে। তখন আমাদের আবার প্রথম থেকে শুরু করতে হবে।" বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান এবং বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চের সামনে দুদক ব্যাখ্যা দেয় কেন তারা এমন একটি ভুল করেছিল।

কোন অন্যায় না করেও তিন বছর ধরে জেলে থাকা ব্যক্তিটি হচ্ছে পাটকল শ্রমিক জাহা আলম। সোনালী ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পরিশোধ তা পরিশোধ করেনি- দুদকের এমন একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। অথচ এই অপকর্মটি যিনি করেছিলেন, জাহা আলম সেই ব্যক্তিই নন। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি জেল খাটছিলেন। হাইকোর্টের আদেশে গত রোববার তিনি মুক্তি পান।

সূত্র:amadershomoy