গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেছেন, আওয়ামী লীগ ইলেকশন আসলেই শুধু জামায়াত জামায়াত করে। জামায়াত তো সব আওয়ামী লীগে। আওয়ামী লীগে ঢুকলেই সব স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি। সোমবার চ্যানেল২৪ টক’শোতে তিনি একথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় দেখেন, এমপি নদভীর পুরো পরিবার জামায়াত। তার শশুরসহ সবাই শীর্ষ পর্যায়ের জামায়াত। নদভীর সহধর্মীনিও মহিলা জামায়াতের শীর্ষ নেত্রী ছিলেন। এখন হয়ে গেছে মহিলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেত্রী। এসব কথা যখন উঠলো, কাদের সাহেব বললেন, আমরা যাচাই-বাছাই করবো। মাহবুবুল আলম হানিফ তো ফুলের তোড়া দিয়ে জামাতীদের বলেন, আসেন ভাই আসেন। এরকম শতশত জামায়াত এখন আওয়ামী লীগে আছে।
সুব্রত বলেন, আওয়ামী লীগ এখন জামায়াতের ছেলেমেয়েদের কথা তুলছে। এত জামায়াত জামায়াতই যদি করতে হয় সুযোগ থাকা সত্ত্বেও জামায়াত নিষিদ্ধ করেনি কেন সরকার। নিবন্ধন যে বাতিল হয়েছে, তাও হাইকোর্টের নির্দেশে হয়েছে। পঞ্চদশ সংশোধনীতে আওয়ামী লীগ এতবড় সুযোগ পেলো তারপরও দেখেন সংবিধানে বিসমিল্লাহ রেখে দিলো। রাষ্ট্রধর্ম একই রেখে দিলো। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ যেটাকে আমরা ৭১ এর মূল চেতনা বলছি, সেটা কেন করলো না। ওদের ভোটাধিকার বন্ধ করে দিতে পারতেন। ওদের পরিবারের সদস্যদের বঙ্গোপসাগরে পাঠিয়ে দিতেন। বলতেন, তোমরা প্রার্থী হতে পারবে না, লেখাপড়া করতে পারবে না, ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হতে পারবে না। এগুলো না করে ইলেকশন আসলেই শুধু জামায়াত জামায়াত করেন। আমরা তো জামায়াতকে বলি যে, ভাই আপনারা আওয়ামী লীগে যান। ওখানে গেলে আর কিচ্ছু লাগবে না। আপনারা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি হয়ে যাবেন।
সুব্রত আরো বলেন, এখন জামায়াত জামায়াত শ্লোগান দিয়ে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায়। তারা কি জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে আন্তরিক? একেবারেই আন্তরিক না। হেফাজতকে বগল-দাবা করেছেন। খেলাফতকে নিয়ে খেলছেন। ইসলামী ঐক্যফ্রন্টকে নিয়ে খেলছেন। আমিনী সাহেবের ছেলেকে নৌকার মাঝি বানাচ্ছেন। সবই আপনারা করছেন। আপনি নিলে অন্যরা নিতে দোষ কী? আপনি যদি শুধু জামাত জামাত করেন, তাহলে ওদের নাগরিক অধিকার বন্ধ করে দেন। ওদেরকে নিষিদ্ধ করেন, জামায়াতের পরিবারকে নিষিদ্ধ করেন। তাহলে বুঝবো যে, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে, এটা সঠিক।