অনেকে মনে করত এখানে শুধু সামরিক সদস্যদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। কিন্তু এখন দেশের দূরদূরান্ত থেকেও রোগী আসছেন এ হাসপাতালে। সাধারণরা জেনে গেছে এটি আর্মি হাসপাতাল নয়। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে এলে মনে হয় না দেশে আছি।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহম্মদ নাসিম রোববার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসাপাতালের ডায়ালাইসিস ইউনিট, ওটি কমপ্লেক্স, ক্যাথল্যাব (প্রচলিত ভাষায় হার্টে রিং পরানো ল্যাব) ও আইসিইউ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ সব কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে জনসংখ্যা বেশি কিন্তু সম্পদ সীমিত। তারমধ্যেও প্রধানমন্ত্রী নিজে উদ্যোগ নিয়ে এ হাসপাতালটি চালু করেছেন। অত্যন্ত অত্যাধুনিক এবং বিশাল পরিসরে এ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমি বেশ কয়েকবার এখানে এসেছি। এখানে এলে বোঝা যায় না এমন একটি সুন্দর পরিচ্ছন্ন হাসপাতাল বাংলাদেশে আছে। বাংলাদেশের সেনাবহিনীর কর্মকর্তা, সদস্যরা এ হাসপাতালাটি পরিচালনা করেন।
তিনি বলেন, অনেকে মনে করত এখানে শুধু সামরিক সদস্যদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। কিন্তু এখানে এসে রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলাম দেশের দূরদূরান্ত থেকেও রোগি সেবা নিতে আসছেন এ হাসপাতালে। অধিকাংশ রোগী দরিদ্র, মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এসেছেন। তারা বড় আশা নিয়ে এসেছেন। যদি সেবার মান না থাকে তাহলে দুঃখ নিয়ে ফিরে যাবে।
মোহম্মদ নাসিম বলেন, এখানে দালালের কোনো উপদ্রুপ নেই। নেই কোনো ওষুধের দোকান-ব্যবসা। মাত্র চারশ টাকায় এ হাসপাতালে কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস হয়। ৩৩টি বেড রয়েছে।
তিনি হাসপাতালে আরো টেকনিক্যাল প্রশিক্ষক, ডাক্তার এবং নার্স নিয়োগের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ও পরিচালককে নির্দেশ দেন। বলেন, এ হাসপাতালটি পরিচালিত করতে দক্ষ হাত দরকার রয়েছে। এ বিষয়ে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।
মন্ত্রী বলেন, কিছুদিনের মধ্যে সারাদেশে ১০ হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়া হবে। তখন তো নার্স রাখার জায়গাই থাকবে না। আমি বিভিন্ন হাসাপাতালে গিয়ে বলি, সুন্দর বিল্ডিং করে দিলাম, আধুনিক যন্ত্রপাতি দিলাম কিন্তু সেখানে সেবার করার মনোভাবটি যেন বজায় থাকে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, প্রতিদিন এ হাসপাতালের আউটডরে আড়াই হাজার রোগী দেখা হয়। হাসপাতালে রয়েছে প্রায় চারশ রোগী। আমি আশা করি এ হাসপাতাল স্বাস্থ্য সেবায় শ্রেষ্ঠ স্থান অধিকার করবে। এখানে যে জনবলের অভাব রয়েছে তা পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. দীন মো. নূরুল হক বলেন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল একটি অভিনব হাসপাতাল। এ হাসপাতাল একটি সিভিল হাসপাতাল। এখানে সকলের প্রবেশধিকার রয়েছে। প্রথম দিকে সমস্যা ছিল- মানুষ এ হাসপাতালে ঢুকতে ইতস্তত করত। তারা মনে করত এটা কী আমাদের হাসপাতাল না আর্মিদের হাসপাতাল। এখন এ সমস্যা অনেকটাই কমে গেছে।এখানে প্রতিদিন আউটডোরে প্রায় তিন হাজার রোগী হয়। এটি ৯ লাখ বর্গ ফুট আয়তনের হাসপাতাল। এখানে মাত্র পাঁচশ রোগী রাখার জায়গা আছে। এখানকার পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খন্দকার শহিদুল গণি আমাকে জানিয়েছেন, এ হাসাপাতলে দুই হাজার রোগী রাখা যাবে। তিন লাখ বর্গফুট আয়তনের মত জায়গা অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এটির যেহেতু লোড নেওয়ার ক্ষমতা আছে তাই এটাকে বিরাট সরকারি হাসপাতাল করে গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খন্দকার শহিদুল গণি বলেন, ১০১ জন ডাক্তার, ৭৭ জন নার্স এবং আউট সোর্সিং এর মাধ্যমে ১৯৬ জন লোক নিয়ে কুর্মিটোলা হাসাপাতালটি চলছে। অর্থ্যাৎ মাত্র ৪৪ শতাংশ লোক দিয়ে অতিকষ্টে এটা চলছে। আজ সকালেও খবর ২৫৫০ জন রোগী এসেছেন। সকালে যারা রোগী দেখছেন, তারাই আবার বিকেলে এবং রাতে ডিউটি করছেন। মাত্র ১০ টাকা দিয়ে টিকেট কেটে যে কেউ সেবা নিতে পারে কুর্মিটোলা হাসপাতালে।

ঢাকার অভিজাত এলাকায় হোটেল রেডিসন এর ঠিক উল্টো দিকে আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজের গাঁ ঘেষে গড়ে উঠেছে চকচকে এক বিশাল ভবন। এটিই কুর্মিটোলা হাসপাতাল। হাসপাতালটির নাম কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল।
এখানে কম খরচে আছে বিভিন্ন টেস্ট ও অপারেশনের সুবিধা।

সূত্র:poriborton