নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের মধ্যে একজন সফল চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত ডা. ফেরদৌস খন্দকার। তার জন্ম কুমিল্লার দেবিদ্বারে। বয়স্কদের চিকিৎসাসেবায় তাঁর রয়েছে প্রচুর অভিজ্ঞতা। ২০০৩ থেকে নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটস ও ব্রুকলিনের অফিস থেকে চলছে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ ভিনদেশী মানুষের চিকিৎসাসেবা। প্রবাসীদের চিকিৎসার পাশাপাশি দেশে তাঁর নানা সামাজিক কর্মকাণ্ড জড়িত তিনি। চিকিৎসা এবং সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের জন্যে বাংলাদেশি ডা. ফেরদৌস খন্দকারকে কংগ্রেশনাল অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত করা হয়েছে। নিউইয়র্কের খ্যাতিমান এই চিকিৎসক এরইমধ্যে তার কাজের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশি কমিউনিটি থেকে শুরু করে অন্যদের মধ্যেও সাড়া ফেলেছেন। এ কারণেই তাকে এই অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়।
রবিবার সন্ধ্যায় আন্তর্জাতিক সংস্থা ’সেলিব্রেশনস’ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির হাতে এই সম্মাননা তুলে দেয়া হয়। কংগ্রেসম্যান গ্রেগরি মিক্স স্বাক্ষরিত এই অ্যাওয়ার্ড তুলে দিয়ে আয়োজকরা বলেছেন, নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কমিউনিটি, মূলধারা এবং বাংলাদেশে সমাজসেবায় ডা. ফেরদৌস খন্দকার বিশেষ অবদান রেখেছেন। তারই স্বীকৃতি এই অ্যাওয়ার্ড।
ওয়ার্ল্ড ফেয়ার মেরিনায় আয়োজিত এই জমকালো অনুষ্ঠানে ছিলেন স্টেট সিনেটর জন ল্যু, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, নেসলি পিউরিফিকেশন ও বিল ভিসকোভিস, ম্যানহাটান বরো প্রেসিডেন্ট গেল আরনট ব্রোয়ার এবং কাউন্সিলম্যান পল ভ্যালন। আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে ছিলেন রজার সেনগুপ্তা।

ডা. ফেরদৌস খন্দকার নিউইয়র্কের অলাভজনক সংস্থা ’দ্য অপটিমিস্ট’র সাথে যুক্ত থেকে বাংলাদেশের শিক্ষা প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। ডিপার্টমেন্ট অব হেলথের সহায়তায় লেড বা সিসা দূষণের বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কাজ করছেন। তার গড়ে তোলা ’ডাক্তার বাড়ী’ ইউটিউবের মাধ্যমে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে লাখো মানুষ বিভিন্ন স্বাস্থ্য বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পারছে। জ্যাকসন হাইটস স্পোর্টিং ক্লাব গঠনের মধ্যে দিয়ে তরুণদেরকে মাদক ও অন্যান্য নেতিবাচক প্রভাব থেকে দূরে রাখার প্রচেষ্টা নিয়েছেন তিনি। সেই সাথে খেলাধুলার মাধ্যমে স্বাস্থ্য গঠনও তার উদ্দেশ্য। এ ছাড়া অংকুর নামে আরেকটি অলাভজনক সংগঠনের মাধ্যমে ডা. খন্দকার বেশ কিছু কাজ করে চলেছেন।

বাংলাদেশে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সেবা দেয়ার জন্যে তিনি কুমিল্লায় গড়ে তুলেছেন দেবিদ্বার ফয়জুন্নেসা ফাউন্ডেশন। ২০০৩ সাল থেকে এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে পুষ্টি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ইত্যাদি বিষয়ে কাজ করেন ডা. ফেরদৌস খন্দকার। এ ছাড়া ’ডাক্তার বাড়ী’ নামে একটি স্বাস্থ্য বিষয়ক বই লিখেছেন তিনি। প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে আরও কয়েকটি বই। প্রসঙ্গত, স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক প্রকাশনা ’ডাক্তার বাড়ী’র মোড়ক উন্মোচনের সময় ডা. ফেরদৌস খন্দকার বলেন, আমার কর্মক্ষেত্র মানুষের স্বাস্থ্য চিকিৎসা বিজ্ঞান আরো বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার প্রাথমিক সোপান হচ্ছে আমার জন্মভূমি। চিকিৎসা সম্পর্কে মানুষকে শুধু সচেতন করাই নয় অপচিকিৎসা, কুসংস্কার বা হাতুড়ে চিকিৎসার বিরুদ্ধে সচেতন করাটাও আমার লক্ষ্য। আর এ প্রচেষ্টার ক্ষুদ্রতম প্রয়াস হলো ’ডাক্তার বাড়ী’।