সংযুক্ত আরব আমিরাত মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে আরব উপদ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব কোনায় অবস্থিত সাতটি স্বাধীন রাষ্ট্রের একটি ফেডারেশন। এগুলি একসময় ট্রুসিয়াল স্টেটস নামে পরিচিত ছিল। ১৯৭১ সালে দেশগুলি স্বাধীনতা লাভ করে। প্রতিটি আমিরাত একটি উপকূলীয় জনবসতিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত এবং ঐ লোকালয়ের নামেই এর নাম। আমিরাতের শাসনকর্তার পদবী আমির। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাতটি আমিরাতের নাম হল আবু ধাবি, আজমান, দুবাই, আল ফুজাইরাহ, রাআস আল খাইমাহ, আশ শারজাহ্ এবং উম্ম আল ক্বাইওয়াইন। আবু ধাবি শহর ফেডারেশনের রাজধানী এবং দুবাই দেশের বৃহত্তম শহর। শেখ মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতূম সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, এবং দুবাই আমিরাত-এর শাসক। সম্প্রতি আরব-আমিরাতে নৌকা চালক বাংলাদেশি মোহাম্মদ আলমের নৌকায় উঠেছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রাশেদ আল মাকতুম। দুবাই ক্রিকের ৬০ নং আবরা এলাকা প্রধানমন্ত্রীকে ঘুরিয়ে দেখিয়েছেন আলম।
৪০ বছর বয়সী বাংলাদেশি আলম দুবাই ক্রিকের আল রাসে থাকেন এবং মাসে ১ হাজার দিরহাম বেতনের পাশাপাশি কমিশনে কাজ করেন তিনি। সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কাজ সেখানে কাজ করেন তিনি। মোহাম্মদ আলমের দেশের বাড়ি কক্সবাজার জেলার উখিয়ায়, বাংলাদেশে তার স্ত্রী, দুই সন্তান রয়েছে দশ ও চার বছর বয়সী। শেখ মোহাম্মদ বিন রাশেদ আল মাকতুমের এই সফরের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যে ভিডিওতে দুবাই’র ঐতিহ্যবাহী এক দিরহামে নৌকা পারাপারের দৃশ্য দেখা যায়। তবে এই ভিডিওতে সর্বাধিক আলোচিত আবরা চালক আলম।

গালফ নিউজকে আলম জানান, গত সোমবার কোনো সাধারণ দিন ছিল না! আমি নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে করেছি, আমাদের মধ্যে অনেক আবরা চালক ছিলেন, আমার বস আমাকে জানিয়েছিলেন যে সড়ক ও পরিবহন কর্তৃপক্ষের (আরটিএ) কিছু অফিসারের জন্য আবরাকে আলাদা রাখতে হবে। জানতাম না শেখ মোহাম্মদও আসছেন, তাই আমি এগিয়ে গেলাম এবং এর চেয়ে বেশি কিছুই ভেবে দেখিনি। তিনি বলেন, শেখ মোহাম্মদ যখন আবরায় পা রেখেছিলেন, আমি তাকে প্রথমবারের মতো ব্যক্তিগতভাবে দেখে অবাক হয়েছি এবং খুব খুশি হয়েছি। তিনি আমার সাথে হ্যান্ডসেক করে জিজ্ঞেস করলেন আমি কেমন আছি এবং উত্তরে ভালো আছি জানিয়ে ধন্যবাদ জানালাম। আলম বলেন, শেখ মোহাম্মদকে নিয়ে নৌকা চালানোর কারণে ঘাবড়ে যাইনি, স্বাভাবিক ছিলাম। কারণ, আমি সব সময় এই কাজটি করি, তাকে নৌকায় করে পারাপারের জন্য নিজেকে খুব আনন্দিত ও গর্বিত মনে করছি।

উল্লেখ্য, বুর্জ খলিফা বর্তমানে পৃথিবীর গগনচুম্বী অট্টালিকা বা উচ্চতম ভবন যা ৪ঠা জানুয়ারী ২০১০ তারিখে উদ্বোধন করা হয়েছে। এটি আরব আমিরাতের দুবাই শহরে অবস্থিত। এটি "দুবাই টাওয়ার" নামেও পরিচিত। নির্মাণকালে এর বহুল প্রচারিত নাম বুর্জ দুবাই থাকলেও উদ্বোধনকালে নাম পরিবর্তন করে "বুর্জ খলিফা" রাখা হয়। এটির উচ্চতা ৮২৮ মিটার (২,৭১৭ ফু)। এটি তাইওয়ানের তাইপে ১০১ টাওয়ার থেকে ১,০০০ ফুটেরও বেশি উচ্চতর। "তাইপেই ১০১" ভবনটির উচ্চতা ৫০৮ মিটার (১,৬৬৭ ফু)। ২০০৪ থেকে ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এটিই ছিল পৃথিবীর উচ্চতম স্থাপনা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে অবস্থিত উইলিস টাওয়ারটি ৪৪২ মিটার (১,৪৫০ ফু) উঁচু। "বুর্জ খলিফা" এতই উঁচু একটি ভবন যে নিচতলা আর সর্বোচ্চ তলার মধ্যে তাপমাত্রার পার্থক্য ৬° সেলসিয়াস। বুর্জ খলিফার" নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০০৪ খ্রিস্টাব্দে, আর কাজ শেষ হয় ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে। এটি তৈরীতে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হয়েছে। এর বহিঃপ্রাঙ্গনে অবস্থিত ফোয়ারা নির্মাণেই ব্যয় হয়েছে ১৩৩ মিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ড। এই ভবনে ১,০৪৪টি বাসা (এপার্টমেন্ট) আছে। ১৫৮তলায় আছে একটি মসজিদ। ৪৩তম এবং ৭৬তম তলায় আছে দুটি সুইমিং পুল। আরো আছে ১৬০ কক্ষবিশিষ্ট একটি হোটেল। ১২৪তম তলায় দর্শকদের জন্য প্রকৃতি দর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ভবনে সংস্থাপিত কোনো কোনো লিফটের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ মাইল। ২০০৪ খ্রিস্টাব্দে শিলান্যাসের পর থেকে অতি দ্রুত নির্মাণ কাজ অগ্রসর হয়েছে। এমনো দিন গেছে যে দিন ১২ হাজার নির্মাণ কর্মী একযোগে নির্মাণ প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত ছিল। সে সময় প্রতি তিন দিন পর পর একটি ছাদ তৈরি করা হয়েছে।