সূর্য ওঠার আগেই সেহরি সেরে সন্ধ্যায় মাগরিবের আজানে ইফতার। রমজান মাস যাবে এভাবেই। গ্রীষ্মের দীর্ঘ দিনে সাধারণ মানুষের জন্যেই বিষয়টা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। দুপুরের পর শরীর ঝিমিয়ে আসতে থাকে। কাজে মনোযোগ দেয়াই যায় না। তাহলে ভেবে দেখুন খেলোয়াড়দের জন্য বিষয়টা কতোটা কঠিন!
এমন গরমে এই প্রথম রমজান পাচ্ছি, যখন খেলাও চলবে। এবং কোনো ক্ষেত্রে ইফতার হয়ে যাবে খেলার মাঝেই। এরকম ক্ষেত্রে প্রথম যে বিষয়টা খেয়াল রাখতে হবে আমার সেটা হলো পানি। সেহরির সময় প্রচুর পরিমানে পানি খেতে হবে। ক্ষুধাটা কিন্তু সেরকম সমস্যা হয়না। সামলানো যায়। সমস্যা হয়ে যায় পিপাসা। সেই জন্যে পানির পাশাপাশি
স্যালাইন, ডাবের পানি খেয়ে নিতে হবে সেহরিতে।
রমজান মাসে সেহরিতেই সবচেয়ে বেশি খাই। বলা যায় ওটাই আমার দিনের মূল খাওয়ার সময়। ভাত, মাছ, ডাল, সবজি, সব কিছুই খাই তখন। আর সারা দিনের জন্যে শক্তি সঞ্চয় করার সময় ঐটাই।
রোজা রেখে আসলে অন্য সময়ের মতো অনুশীলন করাটা কঠিন হয়। তাই বলে করিনা তা না। অবশ্যই করতে হয়। এমনি সময়ে হয়তো চার ঘন্টা করতাম রোজা থাকলে দুই ঘণ্টা। তবে সেই অনুশীলন যতটুকুই করিনা কেন সেটার তীব্রতা একই রকম থাকে। এরকম না হালকা একটু গা গরম করে শেষ করে দিলাম।
এরকম দৌঁড় ঝাঁপের মধ্যে থাকলে বা ম্যাচের মাঝে যদি সময় পাওয়া যায়, আমি যেটা করি সেটা হলো জলদি একবার গোসল করে নিই। শরীরটা একটু ঠাণ্ডা হয়। ম্যাচ বা অনুশীলন শেষে যদি সুযোগ সুবিধা থাকে তো ঠাণ্ডা আইস বাথ খুব কাজে দেয়।
আর খেলার মাঝেই যদি ইফতার হয়ে যায়, তখন খুব বেশি কিছু একেবারেই খাইনা। সত্যি বলতে, রোজা ভাঙলে যেন শরীরটা আরও ছেড়ে দেয়। আর সাথে সাথে খেলাতেও তার প্রভাব পড়ে। তাই একেবারে হালকা কিছু শক্তির জন্যে আর পানি। তাও বুঝেশুনে।
এইবারই প্রথম যে এরকম গরমে খেলার মৌসুমে রমজান মাস পাচ্ছি। এর আগে নেদারল্যান্ডসে খেলার সময় আমরা একবার বিশ ঘণ্টা রোজা পেয়েছিলাম। ওরকম হলে রোজা রেখে খেলা খুব কষ্ট।
তবে এই রমজান তো দেশেই খেলা আছে। এখনও পর্যন্ত ইচ্ছা রোজা রেখেই খেলবো।