‘আমার নাম......। আমি কক্সবাজার থাকি। ২০০৮ সালে আমি নবম শ্রেণিতে থাকাকালীন বিয়ে করবে বলে ফাঁদে ফেলে সে আমাকে চট্টগ্রামে নিয়ে যায় এবং তিন মাস পরে আমি গর্ভবতী হই। কিন্তু সে আমাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে কোনো এক দালালের কাছে বিক্রি করে দিয়ে চলে যায়। পরে আমি পালিয়ে আমার বাড়ি কক্সবাজারে চলে আসি। এরপরে এখানে একটি সংগঠনের নারী পাচার কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে পারি।
আমি তাদের সাহায্য কেন্দ্রে যাই, বাড়ি ফিরে ছেলেটির নামে মামলা করি। কিন্তু রায় দেওয়ার দিন সে অনুপস্থিত ত্থাকায় রায় পাওয়া যায়নি। আমি আশা করি শিগগিরই একটি সমাধান হবে। এখন সকলের মাঝে মানবপাচার সম্পর্কে সচেতনতা জাগানোর চেষ্টা করি। আর এখন আমি সকলকে উদ্দেশ করে বলতে চাই, তুমি যদি কাউকে ভালোবাসো তাহলে তোমার মা-বাবা ও পরিবারের পরামর্শ মেনে পদক্ষেপ নাও।’
ওপরের গল্পটা একটা ছবির গল্প। একটা ছবি যে শুধু ছবি নয় এর পেছনে হাসি কান্না, ব্যথা বেদনা কত কিছুই লুকিয়ে থাকে তা অজানাই থেকে যায়। কানাডার ফটোগ্রাফার টনি হোর (Tony hoare) সেই সব বেদনাতুর গল্পকে ছবির সাথে সম্মিলন ঘটিয়েছেন। প্রকাশ ঘটিয়েছেন ছবির পেছনের অন্ধকারের বিস্মৃত পথ। এ রকম অসংখ্য প্রতারণার ’ছবি গল্প’ তুলে ধরেছেন কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ক্যালগারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এনভারনমেন্টাল ডিজাইন থেকে পাস করা টনি।
শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে হয়ে গেল টনি হোরের ফটোস্টোরি এক্সিবিশন ’বিট্রেইড’। সারাবিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতারণার শিকার মানুষের গল্প তুলে নিয়ে এসেছেন টনি। ইয়াং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন নামের একটি সংস্থা এই প্রদর্শনীর আয়োজন করে।
টনি হোর বলেন, এই সংস্থার ২০০ জন মানুষ কাজ করছে ন্যায়বিচারের জন্য। আমার ধারাবাহিক এই প্রদর্শনীও সেগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই গল্পগুলোকে বাংলায় রূপান্তর করে আউটডোরে, মার্কেট প্লেসে টানিয়ে রাখা দরকার। মানুষ জানুক কারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত, কারা নিপীড়িত। সুত্র-আমার সংবাদ