অভিনব পদ্ধতিতে আনা হচ্ছে ফেনসিডিল
মাদক পাচারের কৌশলের শেষ নেই।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো মাদক পাচার প্রতিরোধে নানামুখী পদক্ষেপ নিলেও পাচারকারীরা থেমে নেই। তারা নানা কৌশলে মাদক পাচার ও বিক্রি অব্যাহত রেখেছে। অনেক সময় পাচারকারীদের নিত্যনতুন ও ঝুঁকিপূর্ণ কৌশল দেখে হতবাক হয়ে পড়েন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা। শুকনো মরিচ, জুতা, ইলিশ মাছ, কচ্ছপ ও নারীদের অন্তর্বাসসহ নানা কায়দায় ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক পাচার করে আসছে মাদক ব্যবসায়ীরা।পুলিশ,র‌্যাব,কোস্টগার্ড,বিজিবি ও শুল্ক গোয়েন্দা সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।
মাদক পাচারের বাহন লাউ
সম্প্রতি ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুল্ক গোয়েন্দাদের হাতে ধরা পড়ে এক ব্যক্তি। যিনি বিশেষ পদ্ধতিতে পাকস্থলী ভর্তি করে ইয়াবা নিয়ে কক্সবাজার থেকে বিমানে ঢাকায় এসেছিলেন।
সূত্র জানায়, প্রায় দিনই স্থল ও জল সীমান্তসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন ধরনের মাদক জব্দ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ইয়াবাই সবচেয়ে বেশি। আর ইয়াবা পাচারে বাহকদের অদ্ভুতকৌশলে বিস্মিত সংশ্লিষ্টরা।
সর্বশেষ গত ১৮ আগস্ট বিশেষ কায়দায় পাকস্থলিতে করে চার হাজার ২০০ পিস ইয়াবা নিয়ে ঢাকায় আসার পর ইমাম হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেন শুল্ক গোয়েন্দারা। তাকে তল্লাশি করে কিছু না পেলেও তাদের সন্দেহ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন তারা। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ইমাম হোসেন জানান, পাকস্থলিতে করে চার হাজারের বেশি ইয়াবা নিয়ে এসেছেন তিনি। এক্সরে করার পর দেখা যায় পেটের ভেতরে সেসব ইয়াবার প্যাকেট। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা প্রায় ১৮ ঘণ্টা সময় নিয়ে ইয়াবার প্যাকেটগুলো তার পেট থেকে বের করেন।
কলসির ভেতরে ফেনসিডিল
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান বলেন, মাদক পাচারের এমন ভয়ঙ্কর কৌশল আগে কখনও দেখা যায়নি। টেকনাফের বাসিন্দা ইমাম হোসেন মাত্র ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের আস্তানায় পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। যে কারণে লোকটি মারাও যেতে পারতেন। তিনি জানান, প্রায়ই তারা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদক উদ্ধার করা হচ্ছে।যার মধ্যে ইয়াবাই বেশি।
মরিচের ভেতরে ইয়াবা
সীমান্তে পাচারকারীদের ধরতে গিয়ে ইয়াবাসহ বিভিন্ন প্রকারের মাদক পাচারের নিত্য নতুন কৌশল সম্পর্কে জানতে পারেন বিজিবি সদস্যরা। বিজিবি’র বিভিন্ন ব্যাটালিয়ন ও ইউনিটের সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওইসব মাদক পাচারকারীকে আটক করতে সক্ষম হন।
স্যান্ডেলের ভেতরে ইয়াবা
বিজিবি’র জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহম্মদ মোহসিন রেজা বলেন, ‘গত জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য আটক করেছে বিজিবি। এরমধ্যে ৪৩ লাখ ৯১ হাজার ৮৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, এক লাখ ৬৩ হাজার ৩৬৯ বোতল ফেনসিডিল, ১৩ হাজার ৭৬ কেজি গাঁজা, এক লাখ ৮৩ হাজার ৫৩৩ বোতল বিদেশি মদ, ১৯ কেজি ২৪৮ গ্রাম হেরোইন, চার লাখ ৬৬ হাজার ১২৩ পিস বিভিন্ন ধরনের উত্তেজক ট্যাবলেট, ৪১ হাজার ৬৫২টি নেশাজাতীয় ইনজেকশন, এক কোটি ১০ লাখ এক হাজার ৭৪৪ পিস বিভিন্ন প্রকারের অবৈধ ট্যাবলেট উদ্ধার করে বিজিবি।
মানবদেহের ভেতরে পাচারকৃত মাদকের নমুনা
মোহসিন রেজা জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিতে মাদক ব্যবসায়ীরা নানা কৌশলে এসব মাদক পাচারের চেষ্টা চালিয়েছে। এসব কৌশলের মধ্যে রয়েছে লাউ, মিষ্টি কুমড়া, সিএনজি চালিত অটোরিকশা, জিআই পাইপ, পানির কলসিতে ইয়াবা তৈরির কেমিক্যাল, মহিলাদের অন্তর্বাস, ইলিশ মাছ ও শুকনো মরিচও রয়েছে। -তজাখবর