সাইরিন আহসান চৌধুরী পেশায় একজন মেডিক্যাল অফিসার। কর্মস্থল থেকে বাসায় আসা যাওয়া করতে নিজের গাড়ি ব্যবহার করলেও চালক ছুটিতে থাকায় তাকে সিএনজি নিতে হয়। পান্থপথ থেকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নিজের বাড়ি পর্যন্ত সিএনজি ঠিক করেন তিনি।
সিএনজিতে ওঠামাত্রই চালক সাইড ভিউয়ের আয়নাগুলি এমনভাবে ঘুরিয়ে দেয় যাতে যাত্রীকে দেখা যায়। তারপর বারবার তার দিকে তাকায়। যাত্রী সাইরিন আহসান বেশ অপ্রস্তুত বোধ করলেও এরকম পরিস্থিতিতে কী করবেন তা বুঝে উঠতে পারেন না। প্রচণ্ড নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে তিনি তার আত্মীয় স্বজনকে ফোন দেন এবং কোথায় আছেন সে সম্পর্কে প্রতি মূহুর্তে তাদেরকে আপডেট দিতে থাকেন।
সিএনজি চালক এতোকিছুর পরেও গাড়ি থামান না। গাড়ি মহাখালীতে গেলে সিগন্যালে থামিয়ে কিছু সময়ের জন্যে সিএনজির বাইরে যায় চালক। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে মহিলা যাত্রীর সামনেই সিএনজিতে হস্তমৈথুন করতে শুরু করে! এই পর্যায়ে সিএনজির যাত্রীর আসনে থাকা সাইরিন আহসান চৌধুরী এতো বেশি ভয় পেয়ে যান যে তার স্বামীকে ফোন করেন এবং বাড়িতে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রায় চল্লিশ মিনিট তার সাথে কথা বলেন।
ঘটনার পর বাড়িতে ফিলে ফেসবুকে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি পুরো ঘটনা সবার সাথে শেয়ার করেন। এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে তিনি ফেসবুকে বলেন যে, শেষ কবে তিনি এতোটা ব্যথিত এবং আতংকিত হয়েছেন তা মনে করতে পারছেন না। তিনি সিএনজিতে যাতায়াত করছে এমন সকল নারীকে সাবধান হতে বলেন।
ফেসবুকে ২২ তারিখে আপলোড করা ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় দুই লক্ষ বার দেখা হয়েছে এবং আড়াই হাজার বার শেয়ার করা হয়েছে। পোস্টের মন্তব্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে মন্তব্যকারীরা। অনেকেই জানতে চেয়েছেন যে পরবর্তীতে সিএনজি চালকের বিরুদ্ধে তিনি কোনোপ্রকার আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন কি না। তবে সাইরিন আহসান কারো মন্তব্যের জবাব দেন নি।
উল্লেখ্য যে, গতমাসে বিভিন্ন সময়ে বেশ কয়েকবার ফেসবুকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সিএনজি চালকদের অশোভন আচরন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নারীরা