একজনের পক্ষ থেকে অন্যজনের জন্য লিখিত তথ্যধারক বার্তা হচ্ছে চিঠি। দুজন বা দুপক্ষের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখে চিঠি। বন্ধু ও আত্মীয়দের আরো ঘনিষ্ট করে, পেশাদারি সম্পর্কের উন্নয়ন করে এবং আত্মপ্রকাশের সুযোগ দেয়। স্বাক্ষরতা টিকিয়ে রাখতেও একসময় চিঠির অবদান ছিল। প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ চিঠি আদানপ্রদান করেছে।
ঐতিহাসিকভাবে, চিঠির প্রচলন ছিল প্রাচীন ভারত, প্রাচীন মিশর, সুমের, প্রাচীন রোম, মিশর এবং চীনে, চলছে এখনো। সতের ও আঠারো শতকে চিঠি লেখা হতো স্ব-শিক্ষার জন্য। চিঠি ছিল পাঠচর্চা, অভিজ্ঞতা বর্ণনা করা, বিতর্কমূলক লেখা বা সমমনা অন্যদের সাথে আইডিয়া বিনিময়ের পদ্ধতি। কিছু লোক চিঠিকে মনে করতো কেবল লেখালেখি। আবার অন্যরা মনে করে যোগাযোগের মাধ্যম। সম্প্রতি, জরুরি একটি চিঠি ডাক বিভাগের স্পিড পোস্টের (দ্রুত পৌঁছানোর মাধ্যম) মাধ্যমে পাঠানো হয়েছিল ২০০০ সালে। সেই চিঠি গন্তব্যে পৌঁছেছে ২০১৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। প্রেরক ও প্রাপক ছিলেন একই রাজ্যের।

১১ সেপ্টেম্বর তুহিন শংকরের মোবাইল ফোনে একটি এসএমএস আসে। তার চিঠিটি গন্তব্যে পৌঁছেছে বলে এসএমএসে জানানো হয়। তুহিনের বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জের সুদর্শনপুরে। তুহিন ২০০০ সালের ১ জানুয়ারি রায়গঞ্জ মুখ্য ডাকঘর থেকে চিঠিটি পাঠান। তবে চিঠিটি তিনি এত দিন আগে কাকে পাঠিয়েছিলেন তা এখন মনে করতে পারছেন না। তিনি বলেন, উনিশ বছর আগে চিঠি লিখেছিলাম। আজ স্পিড পোস্টে তা গন্তব্যে পৌঁছল। প্রসঙ্গত, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির ব্যবহার সর্বস্তরে। এরই ধারাবাহিকতায় চিঠি এর প্রবণতা কমে গেছে। এক কথায় চিঠি এর প্রবণতা নেই বললেই চলে। যুগের ধারায় ক্রমশভাবে হারিয়ে যাচ্ছে।