অভিবাসনের সুফল সত্যিকার অর্থে অভিবাসীরা পাচ্ছে না। এর অন্যতম কারণ উচ্চ অভিবাসন ব্যয়। অন্য দেশের অভিবাসীদের তুলনায় বাংলাদেশিদের চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি খরচ করে বিদেশে যেতে হয়। ব্যক্তিপর্যায়ে অবৈধভাবে ভিসা ক্রয়-বিক্রয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় বিদেশের সিন্ডিকেট। ২০১৬ সালে পাঁচটি দেশ—সৌদি আরব, কুয়েত, আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের ভিসা অবৈধভাবে কেনাবেচার মাধ্যমেই ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা) পাচার হয়ে যায়। গতকাল রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ’অভিবাসন ও সোনার মানুষ সম্মিলন ২০১৯’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব তথ্য তুলে ধরেন।
প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানো ’কষ্ট শূন্য’ করার দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, ’যেসব প্রবাসী ২০০ ডলারের কম রেমিট্যান্স দেশে পাঠাবে তারা যাতে শূন্য খরচে সেই টাকা পাঠাতে পারে এর উদ্যোগ নিতে হবে। কুড়িগ্রামসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষ খুব বেশি বিদেশে যেতে পারছে না। এর মূল কারণ হচ্ছে অর্থের সমস্যা। ওই সব এলাকার মানুষ যেন বিদেশে যেতে পারে সে জন্য সরকারকে অর্থের ব্যবস্থা করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূল এলাকা থেকে আগামী দশকে লাখ লাখ মানুষ ঢাকাসহ এর আশপাশের জেলায় অভিবাসী হয়ে বসবাস করবে। উন্নত দেশের চাপিয়ে দেওয়া এই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ’ক্লাইমেট মাইগ্রেন্ট পাসপোর্টে’ উন্নত দেশগুলোতেও বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে হবে।

বেসরকারি সংস্থা ’রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের’ চেয়ারপারসন ড. তাসনিম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অভিবাসন খাতের সিন্ডিকেট নির্মূল করার দাবি জানিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ’বছরে ১৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করার কথা আমরা বলছি; কিন্তু প্রতিবছর অবৈধ প্রক্রিয়ায় কমপক্ষে ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার যে কৌশলে পাচার হয়ে যাচ্ছে, সেটি কিন্তু আমরা দেখছি না। এর মাসুল দিচ্ছে আমাদের অভিবাসনকর্মীরা।’ তিনি আরো বলেন, ’সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের এসব দুর্নীতির সঙ্গে যোগসাজশের কারণে প্রবাসীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। যারা অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’

ইফতেখারুজ্জামান আরো বলেন, ’অভিবাসীদের কারণে শুধু আমাদের দেশই লাভবান হচ্ছে না, যেসব দেশে আমাদের কর্মীরা যাচ্ছে সেসব দেশের অর্থনীতিতেও বিরাট অবদান রাখছে তারা। আমরা যখন ওই সব দেশের সঙ্গে কূটনীতি করব, তাদের কাছে আমাদের নতজানু হওয়ার দরকার নেই। আমাদের মাথা উঁচু করে বলতে হবে তোমাদের অথর্নীতিতে আমরা অবদান রাখছি। এই যে ভিসা বেচাকেনার মাধ্যমে অবৈধ লেনদেন হচ্ছে, সেটি বন্ধ করো। বিভিন্ন দেশের দূতাবাস কিংবা হাইকমিশনে সক্ষমতা বাড়ানোর পাশপাশি অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।’

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সিনিয়র ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ’টেকসই উন্নয়নে অভিবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর কষ্ট কমিয়ে আনতে হবে। রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে কস্ট তিন পার্সেন্টে কমিয়ে আনতে বাংলাদেশ কাজ করছে। ২০০ ডলারের কম যেসব প্রবাসী বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠাবে তারা যাতে শূন্য খরচে দেশে টাকা পাঠাতে পারে সেই বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। কুড়িগ্রামসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষ খুব বেশি বিদেশে যেতে পারছে না, তারা যাতে বিদেশে যেতে পারে সে জন্য সরকারকে অর্থের ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারি অর্থে বিদেশে যাওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে।’

আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইসিসিসিএডি) পরিচালক ড. সেলিমুল হক বলেন, ’জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আগামী দশকে উপকূলীয় অঞ্চল থেকে লাখ লাখ মানুষ ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে আসবে। দেশের ভেতরেই এই অভিবাসন হচ্ছে উন্নত দেশগুলোর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া। আমরা দাবি রাখতে পারি যে ক্লাইমেন্ট মাইগ্রেন্ট পাসপোর্ট নিয়ে উন্নত দেশগুলোতেও বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে হবে। এটি অবশ্যই আদায় করে নেওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরতে হবে।’

অভিবাসন নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ওয়ারবির পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিবাসীদের বিদেশে যাওয়ার পেছনে সরকারের কোনো বিনিয়োগ নেই। নিজের বাড়িঘর বিক্রি, জমি বন্ধক আর ঋণের টাকায় তারা অভিবাসী হচ্ছে। অভিবাসীদের জন্য নেই কোনো প্রণোদনার ব্যবস্থা। তাই এই সেক্টরের কর্মীদের জন্য প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

অভিবাসন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ কামরুল কবীর ভূঁইয়া বলেন, ’রেমিট্যান্স পাঠানোর কষ্ট কমাতে পারলে আরো রেমিট্যান্স বাড়বে। হুন্ডির মাধ্যমে বিশাল অঙ্কের টাকা বাংলাদেশে আসছে। এটি যদি আমরা ফরমাল সেক্টরের মাধ্যমে নিয়ে আসতে পারি, রেমিট্যান্স আরো বাড়বে। আর ২৪ ঘণ্টাই কিভাবে রেমিট্যান্স দেশে পাঠাতে পারে সেই প্রক্রিয়ার জন্য আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করছি। এক হাজার ২০০ এক্সচেঞ্জ অফিসের সঙ্গে কাজ করছি।’

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ’অভিবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স নিয়ে আমরা যতটা আগ্রহী এবং উৎসাহী, সেই তুলনায় অভিবাসীদের প্রতি মানবিক ব্যবহারের জায়গাটায়—মর্যাদার বিষয়ে সেইভাবে সরব নই। বিমানবন্দর কিংবা দূতাবাসেও তাদের প্রতি মানবিক ব্যবহারের জায়গাটা উন্নত করতে পারছি না। এটা নীতির বিষয় নয়, এটা দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়। বিমানবন্দরে যাঁরা আছেন তাঁদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা উচিত।’ তিনি বলেন, দেশে ফেরত আসা প্রবাসীদের বিষয়েও নতুন করে ভাবতে হবে। তারা অনেকেই দক্ষ হয়ে ফিরছে। দেশে তাদের কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক সেলিম রেজা বলেন, ’অভিবাসীরা সোনার মানুষ। তাদের আমরা অনেক সহায়তা দিতে পারি না আমাদের সীমাবদ্ধতার কারণে।’

২০২০ থেকে ২০২৯ সালকে অভিবাসন দশক ঘোষণা করে নারী ও পুরুষ অভিবাসীদের অধিকার রক্ষায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের দাবি জানিয়ে ড. তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, ’আমরা যে দীর্ঘদিন ধরে অপেশাদার ও অদক্ষ লোক পাঠাচ্ছি, তার বদলে আমরা যেন দক্ষ কর্মী পাঠাতে পারি সে জন্য দক্ষ কর্মী গড়ে তুলতে হবে।’ তিনি বলেন, ’বিদেশে নারী কর্মীরা নিগ্রহ, নির্যাতনের শিকার হয়। আন্তর্জাতিক পরিসরে যে বহুপক্ষীয় ফোরামগুলো আছে, সেখানে আমাদের আওয়াজ তুলতে হবে।’ গতকাল রবিবার বিকেলে সম্মিলনের সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন, কিভাবে অভিবাসীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো যায় এবং পদ্ধতিগত জটিলতাগুলো দূর করা যায় সে জন্য সরকার কাজ করছে।

বিকেলে অভিবাসনবিষয়ক আন্ত বিশ্ববিদ্যালয় পার্লামেন্টারি বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেয় ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রধান অতিথি ছিলেন পার্লামেন্টারি ককাস অন মাইগ্রেশনের সভাপতি মো. ইসরাফিল আলম এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন বায়রার সভাপতি ও সংসদ সদস্য বেনজির আহমেদ, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম। পরে তাসনিম সিদ্দিকী ও সি আর আবরারের ’টুয়ার্ডস ট্রান্সপারেন্সি ইন রিক্রুটমেন্ট : মেকিং দালালস ভিজিবল’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান।

সূত্র:kalerkantho
হয়রানি বন্ধ করে প্রবাসীদের সম্মান দেওয়ার দাবি
Logo
Print

 

অভিবাসনের সুফল সত্যিকার অর্থে অভিবাসীরা পাচ্ছে না। এর অন্যতম কারণ উচ্চ অভিবাসন ব্যয়। অন্য দেশের অভিবাসীদের তুলনায় বাংলাদেশিদের চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি খরচ করে বিদেশে যেতে হয়। ব্যক্তিপর্যায়ে অবৈধভাবে ভিসা ক্রয়-বিক্রয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় বিদেশের সিন্ডিকেট। ২০১৬ সালে পাঁচটি দেশ—সৌদি আরব, কুয়েত, আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের ভিসা অবৈধভাবে কেনাবেচার মাধ্যমেই ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা) পাচার হয়ে যায়। গতকাল রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ’অভিবাসন ও সোনার মানুষ সম্মিলন ২০১৯’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব তথ্য তুলে ধরেন।
প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানো ’কষ্ট শূন্য’ করার দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, ’যেসব প্রবাসী ২০০ ডলারের কম রেমিট্যান্স দেশে পাঠাবে তারা যাতে শূন্য খরচে সেই টাকা পাঠাতে পারে এর উদ্যোগ নিতে হবে। কুড়িগ্রামসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষ খুব বেশি বিদেশে যেতে পারছে না। এর মূল কারণ হচ্ছে অর্থের সমস্যা। ওই সব এলাকার মানুষ যেন বিদেশে যেতে পারে সে জন্য সরকারকে অর্থের ব্যবস্থা করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূল এলাকা থেকে আগামী দশকে লাখ লাখ মানুষ ঢাকাসহ এর আশপাশের জেলায় অভিবাসী হয়ে বসবাস করবে। উন্নত দেশের চাপিয়ে দেওয়া এই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ’ক্লাইমেট মাইগ্রেন্ট পাসপোর্টে’ উন্নত দেশগুলোতেও বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে হবে।

বেসরকারি সংস্থা ’রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের’ চেয়ারপারসন ড. তাসনিম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অভিবাসন খাতের সিন্ডিকেট নির্মূল করার দাবি জানিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ’বছরে ১৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করার কথা আমরা বলছি; কিন্তু প্রতিবছর অবৈধ প্রক্রিয়ায় কমপক্ষে ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার যে কৌশলে পাচার হয়ে যাচ্ছে, সেটি কিন্তু আমরা দেখছি না। এর মাসুল দিচ্ছে আমাদের অভিবাসনকর্মীরা।’ তিনি আরো বলেন, ’সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের এসব দুর্নীতির সঙ্গে যোগসাজশের কারণে প্রবাসীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। যারা অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’

ইফতেখারুজ্জামান আরো বলেন, ’অভিবাসীদের কারণে শুধু আমাদের দেশই লাভবান হচ্ছে না, যেসব দেশে আমাদের কর্মীরা যাচ্ছে সেসব দেশের অর্থনীতিতেও বিরাট অবদান রাখছে তারা। আমরা যখন ওই সব দেশের সঙ্গে কূটনীতি করব, তাদের কাছে আমাদের নতজানু হওয়ার দরকার নেই। আমাদের মাথা উঁচু করে বলতে হবে তোমাদের অথর্নীতিতে আমরা অবদান রাখছি। এই যে ভিসা বেচাকেনার মাধ্যমে অবৈধ লেনদেন হচ্ছে, সেটি বন্ধ করো। বিভিন্ন দেশের দূতাবাস কিংবা হাইকমিশনে সক্ষমতা বাড়ানোর পাশপাশি অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।’

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সিনিয়র ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ’টেকসই উন্নয়নে অভিবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর কষ্ট কমিয়ে আনতে হবে। রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে কস্ট তিন পার্সেন্টে কমিয়ে আনতে বাংলাদেশ কাজ করছে। ২০০ ডলারের কম যেসব প্রবাসী বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠাবে তারা যাতে শূন্য খরচে দেশে টাকা পাঠাতে পারে সেই বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। কুড়িগ্রামসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষ খুব বেশি বিদেশে যেতে পারছে না, তারা যাতে বিদেশে যেতে পারে সে জন্য সরকারকে অর্থের ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারি অর্থে বিদেশে যাওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে।’

আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইসিসিসিএডি) পরিচালক ড. সেলিমুল হক বলেন, ’জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আগামী দশকে উপকূলীয় অঞ্চল থেকে লাখ লাখ মানুষ ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে আসবে। দেশের ভেতরেই এই অভিবাসন হচ্ছে উন্নত দেশগুলোর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া। আমরা দাবি রাখতে পারি যে ক্লাইমেন্ট মাইগ্রেন্ট পাসপোর্ট নিয়ে উন্নত দেশগুলোতেও বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে হবে। এটি অবশ্যই আদায় করে নেওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরতে হবে।’

অভিবাসন নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ওয়ারবির পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিবাসীদের বিদেশে যাওয়ার পেছনে সরকারের কোনো বিনিয়োগ নেই। নিজের বাড়িঘর বিক্রি, জমি বন্ধক আর ঋণের টাকায় তারা অভিবাসী হচ্ছে। অভিবাসীদের জন্য নেই কোনো প্রণোদনার ব্যবস্থা। তাই এই সেক্টরের কর্মীদের জন্য প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

অভিবাসন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ কামরুল কবীর ভূঁইয়া বলেন, ’রেমিট্যান্স পাঠানোর কষ্ট কমাতে পারলে আরো রেমিট্যান্স বাড়বে। হুন্ডির মাধ্যমে বিশাল অঙ্কের টাকা বাংলাদেশে আসছে। এটি যদি আমরা ফরমাল সেক্টরের মাধ্যমে নিয়ে আসতে পারি, রেমিট্যান্স আরো বাড়বে। আর ২৪ ঘণ্টাই কিভাবে রেমিট্যান্স দেশে পাঠাতে পারে সেই প্রক্রিয়ার জন্য আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করছি। এক হাজার ২০০ এক্সচেঞ্জ অফিসের সঙ্গে কাজ করছি।’

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ’অভিবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স নিয়ে আমরা যতটা আগ্রহী এবং উৎসাহী, সেই তুলনায় অভিবাসীদের প্রতি মানবিক ব্যবহারের জায়গাটায়—মর্যাদার বিষয়ে সেইভাবে সরব নই। বিমানবন্দর কিংবা দূতাবাসেও তাদের প্রতি মানবিক ব্যবহারের জায়গাটা উন্নত করতে পারছি না। এটা নীতির বিষয় নয়, এটা দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়। বিমানবন্দরে যাঁরা আছেন তাঁদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা উচিত।’ তিনি বলেন, দেশে ফেরত আসা প্রবাসীদের বিষয়েও নতুন করে ভাবতে হবে। তারা অনেকেই দক্ষ হয়ে ফিরছে। দেশে তাদের কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক সেলিম রেজা বলেন, ’অভিবাসীরা সোনার মানুষ। তাদের আমরা অনেক সহায়তা দিতে পারি না আমাদের সীমাবদ্ধতার কারণে।’

২০২০ থেকে ২০২৯ সালকে অভিবাসন দশক ঘোষণা করে নারী ও পুরুষ অভিবাসীদের অধিকার রক্ষায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের দাবি জানিয়ে ড. তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, ’আমরা যে দীর্ঘদিন ধরে অপেশাদার ও অদক্ষ লোক পাঠাচ্ছি, তার বদলে আমরা যেন দক্ষ কর্মী পাঠাতে পারি সে জন্য দক্ষ কর্মী গড়ে তুলতে হবে।’ তিনি বলেন, ’বিদেশে নারী কর্মীরা নিগ্রহ, নির্যাতনের শিকার হয়। আন্তর্জাতিক পরিসরে যে বহুপক্ষীয় ফোরামগুলো আছে, সেখানে আমাদের আওয়াজ তুলতে হবে।’ গতকাল রবিবার বিকেলে সম্মিলনের সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন, কিভাবে অভিবাসীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো যায় এবং পদ্ধতিগত জটিলতাগুলো দূর করা যায় সে জন্য সরকার কাজ করছে।

বিকেলে অভিবাসনবিষয়ক আন্ত বিশ্ববিদ্যালয় পার্লামেন্টারি বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেয় ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রধান অতিথি ছিলেন পার্লামেন্টারি ককাস অন মাইগ্রেশনের সভাপতি মো. ইসরাফিল আলম এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন বায়রার সভাপতি ও সংসদ সদস্য বেনজির আহমেদ, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম। পরে তাসনিম সিদ্দিকী ও সি আর আবরারের ’টুয়ার্ডস ট্রান্সপারেন্সি ইন রিক্রুটমেন্ট : মেকিং দালালস ভিজিবল’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান।

সূত্র:kalerkantho
Template Design © Joomla Templates | GavickPro. All rights reserved.