বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের লন্ডন স্টেশনের আর্থিক দুর্নীতি যেন থামছেই না। উদঘাটন হচ্ছে নতুন নতুন দুর্নীতির তথ্য। ফ্রি-টিকিট কেলেঙ্কারির রেশ কাটতে না কাটতেই কার্গো কমিশন খাতে ৫০ লাখ টাকার নতুন দুর্নীতির তথ্য ধরা পড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কার্গো কমিশন খাতের সাব-এজেন্ট জেএমজি কার্গো অ্যান্ড ট্রাভেলস লিমিটেডকে ৫০টি বিজনেস ক্লাসের টিকিট প্রদান করেন সদ্য বিদায়ী লন্ডনের বিতর্কিত কান্ট্রি ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম। যার মূল্য ৬০ লাখ টাকার ওপরে। ডাবল কমিশন ও ৫০টি ফ্রি টিকিট বাবদ ৬০ লাখ টাকাসহ দুর্নীতির পরিমাণ এক কোটি ১০ লাখ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে।

অভিযোগ রয়েছে, সংস্থাটির অর্থ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মিজানুর রশিদ ও আইন বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক আজরা নাসরিনের বিধিবহির্ভূত সুপারিশে এ অপকর্ম সংঘটিত হয়েছে।

জেনারেল সেলস এজেন্ট-জিএসএ ছাড়া সাব-এজেন্টের সঙ্গে বিমানের কোনো আর্থিক লেনদেন বা কমিশন প্রদানের নিয়ম না থাকলেও মার্কেটিং বিভাগের তৎকালীন পরিচালক আলী আহসান বাবু এবং লন্ডনের কান্ট্রি ম্যানেজার শফিকুল ইসলামের সহযোগিতার এ অর্থছাড় করিয়ে নেয় জেএমজি।

দুর্নীতির এ বিষয়ে জানতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অর্থ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মিজানুর রশিদের মোবাইল ফোনে কল দেয়া হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে ম্যাসেঞ্জারে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জেএমজি\\\’র পেমেন্টের দায়ভার লন্ডন স্টেশনের। এছাড়া বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এটির অনুমোদন দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, অডিট ও লিগ্যাল শাখার মতামত জানার পর আমি সেটিতে স্বাক্ষর করি। তবে নিয়মানুযায়ী রাজস্ব জেনারেল শাখায় ফাইলটি কেন পাঠানো হয়নি বা মতামত নেয়া হয়নি এ বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারব না।

যাচাই-বাছাই কিংবা নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সাব-এজেন্টকে কেন ৫০ লাখ টাকা পরিশোধের আইনি সুপারিশ করেছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে আইন বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক আজরা নাসরিন বলেন, \\\’আমি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি নই।\\\’ খবর জাগো নিউজ।
জানা গেছে, লন্ডন স্টেশনের কার্গো ব্যবসা পরিচালনার জন্য বিমান ২০১৩ সালে যথাযথ নিয়ম মেনে কার্গো চার্জ বাবদ চার শতাংশ হারে কমিশন প্রদানের চুক্তিতে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কার্গো জিএসএ ইসিএস গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্লোব এয়ার কার্গোকে নিয়োগ দেয়। নির্ধারিত চার শতাংশ কমিশনের মধ্যে দুই দশমিক পাঁচ শতাংশ জিএসএ আন্ডার রাইটিং কমিশন এবং এক দশমিক পাঁচ শতাংশ টোটাল কার্গো ব্যবসার ওপর ইনসেনটিভ/কমিশন দেয়া হয়। প্রতি ১৫ দিন পরপর জিএসএ (জেনারেল সেলস এজেন্ট) মোট বিক্রির চার শতাংশ কমিশন কেটে রেখে এবং অবশিষ্ট ৯৬ শতাংশ অর্থ বিমানের তহবিলে জমা করে।

বিমানের লন্ডন স্টেশন সূত্রে জানা যায়, চুক্তি অনুযায়ী জিএসএ গ্লোব এয়ার কার্গোকে এড়িয়ে সাব-এজেন্ট জেএমজিকে সরাসরি কমিশন ও ফ্রি টিকিট প্রদান করা হয়েছে, যা চুক্তি বহির্ভূত। একই কাজের কমিশন একবার নিয়েছে জিএসএ আবার নিল সাব-এজেন্ট। ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিমান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, সর্বশেষ ২০১৮ সালের জুনে ইউরোপ ও আমেরিকার ৪৭টি দেশে ব্যবসা পরিচালনায় অভিজ্ঞ কোম্পানিকে বাদ দিয়ে কথিত সাব-এজেন্ট জেএমজি\\\’র হাতে বিমানের কার্গো ব্যবসা তুলে দেয়া হয়। পরে গোপন চুক্তি অনুযায়ী বিমানের মার্কেটিং বিভাগের মহাব্যবস্থাপকের মতো সম্মানজনক চাকরি হতে পদত্যাগ করে আতিক রহমান চিশতি জেএমজি\\\’র পার্টনার হিসেবে যোগ দেন।

সদ্য অবসরে যাওয়া মার্কেটিং বিভাগের পরিচালক আলী আহসান বাবু এবং আইন ও অর্থ বিভাগের দুই কর্মকর্তা আজরা নাসরিন ও মিজানুর রশিদ বিধিবহির্ভূত সুপারিশ করেন। জালিয়াতির নথিপত্রে আপনি কী কারণে স্বাক্ষর করলেন- এমন প্রশ্নের জবাবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এ এম মোসাদ্দিক আহমেদ বলেন, \\\’আমি বিষয়টি জানি না। এ বিষয়ে অফিস খুললে বিস্তারিত জেনে জানানো সম্ভব হবে।\\\’

সূত্র:জাগো নিউজ