ঢাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। অথচ আমরা কী দেখতে পাচ্ছি, দুদক চেয়ারম্যান প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত হন কী না তা পরিদর্শন করতে যায়? আমি আশ্চর্য হয়ে যাই দুদক চেয়ারম্যানের কার্যক্রম দেখে। তারা উচ্চ পর্যায়ের কোন কর্মকর্তার কাছে না গিয়ে নিন্ম পর্যায়ের মানুষদের কাছে যাচ্ছে, এই পর্যায়ের কারও কাছে গেলে তার সুফল সরকার বা দেশবাসী পাবে না বলে আমি মনে করি।
সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশো অনুষ্ঠানে এসে তিনি সব কথা বলেন।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেরানী আবজালের যে সহায় সম্পতির ফিরিস্তি গণমাধ্যমে বের হয়েছে, এ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও সচিব পর্যায়ের লোকদের কী অবস্থা হতে পারে? তারা কী দুর্নীতি করেনি, এটা কী দেশবাসি বিশ্বাস করবে? সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও সচিবরা দুর্নীতি করছে না, এটা কী সত্য? নিন্ম পর্যায়ে হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি হয়েছে। তবে উচ্চ পর্যায়ে কেমন হয়েছে দেশবাসীর কী বোঝার বাকি রয়েছে কিছু।

আসিফ নজরুল বলেন, গণমাধ্যম থেকে জানতে পেরেছি, দেশ থেকে বর্তমান সরকারের দশ বছরের শাসন আমলে প্রায় ৫ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এটা নিশ্চয়ই সাধারণ মানুষ করেনি? করেছে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের লোকেরা। সে ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী যদি সত্যিই দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখতে পারেন, আল্টিমেটলি তার সুফল শুধু সরকার পাবে না, আমরা যারা দেশের সাধারণ মানুষ তারাও এর সুফল ভোগ করতে পারবো।

তিনি আরও বলেন, দুদক চেয়ারম্যান অযথা প্রাথমিক স্কুল পরিদর্শন ও থানা স্বাস্থ্যকমপ্লেস্কেসে ডাক্তার ঠিক-ঠাক মত আসছে কী না তা না দেখে বরং কোন কোন ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়েছে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা । এতে করে রাষ্ট্র ও দেশের মানুষের কল্যাণ হবে। স্কুল পরিদর্শন করে স্বস্তা বাহাবা হয়তো বা পাবেন, জনগণ বাহাবা দিতে পারে। আমি আমার অবস্থান থেকে বলছি দুদদ চেয়ারম্যানের কাজে সন্তুষ্ট নই। কেননা এদরে বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের আগে তাদের (রাগব বোয়াল) যারা আছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। তবেই আপনাকে ধন্যবাদ জানাবে।

সূত্র:বিডি২৪লাইভ