বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমদ চৌধুরী এখন আওয়ামী লীগের মানুষ। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে ফুলের তোড়া দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন।
ইনাম আহমদ চৌধুরী সিলেট-১ আসনে বিএনপির বিকল্প প্রার্থী ছিলেন। এই আসনে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়া হয় খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে। মনোনয়ন না পাওয়াতেই বিএনপি ছেড়েছেন বলে মন্তব্য করা হচ্ছে। যদিও এ ব্যাপারে ইনাম চৌধুরী এখনও গণমাধ্যমের কাছে কোন প্রতিক্রিয়া জানাননি।

’হেভিওয়েট নেতা’ ইনাম আহমদ চৌধুরীর সাথে নির্বাচনের শুরুর দিকে যারা ছিলেন তারাও বখেনস চৌধুরীকে অপছন্দ করছেন। তারা এখন বয়োজ্যেষ্ঠ এই নেতার উপর চরম ক্ষুব্দ। এমন দলবদল সিলেট বিএনপি কোনভাবেই আশা করেনি। তারা ইনাম আহমদ চৌধুরীকে ’বেঈমান’ বলে আখ্যায়িত করছেন।

সিলেট মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী বলেন- ’বিএনপি বিশাল দল। তাই এ দল থেকে একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। যখন তাকে মনোনয়ন দেয়া হয় আমরা তার সাথে ছিলাম। পরে দল একক প্রার্থীকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয় তখন আমরা একক প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের পক্ষে কাজ করছি। ইনাম আহমদ চৌধুরী দল পরিবর্তন করে প্রমাণ করলেন তিনি সুবিধাবাদী চরিত্রের মানুষ। যারা আজ এক দল, কাল এক দলের সাথে থাকে তাদের কাছ দেশ ও জাতি কোন কিছু আশা করতে পারেনা। তারা নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত থাকেন। এরা যেকোন দলের রাজনীতির জন্যই ক্ষতিকর। এদের মতো মানুষ একটা সময় কোন কূলেই স্থান পায় না। দল ইনাম আহমদ চৌধুরীকে কী দেয়নি। তার প্রাপ্য সর্বোচ্চ সম্মান তাকে দিয়েছে। আজ নমিনেশনা না পেয়ে তিনি দল ছেড়ে গেলেন।’

সিলেট মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি সালেহ আহমদ খসরু গণমাধ্যমকে বলেন, ’বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি একটি মহাসমুদ্র। এই মহাসমুদ্রে বড় মাছ বাস করে। আবার চুনুপুটিরাও বাস করে। মহাসমুদ্র থেকে চুনুপুটিরা চলে গেলে সমুদ্রের কিছুই হয় না।’

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও বিএনরি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ’আমরা এতোদিন জেনেছি রক্তের রং লাল। এখন জানলাম রক্তের রং সাদাও হয়। ইনাম আহমদ চৌধুরী সেটি দেখালেন। তার মতো বৃদ্ধ মানুষ এমন একটা সময় দল পরিবর্তন করলেন যখন জাতি একটা চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে। জাতি দুঃশাসন থেকে মুক্তির পথ খোঁজে নিচ্ছে। আর এমন সময় তিনি সেই দুঃশাসনের ভিড়েই নিজেকে জড়িয়ে নিলেন।’

এর আগে গত ২৮ নভেম্বর সিলেট-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন ইনাম আহমদ চৌধুরী। সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী এমদাদুল ইসলামের কাছে মনোনয়নপত্র জমা প্রদানকালে ইনাম আহমদ চৌধুরীর সাথে ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি ডা. নাজমুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী প্রমুখ।

এছাড়া সিলেট-১ আসনে ইনাম আহমদ চৌধুরীকে ধানের শীষ প্রতীকে চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রদানের জন্য সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ ৫১ জন নেতা কেন্দ্র বিএনপির কাছে চিঠিও দিয়েছিলেন। পরে দল থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন পান খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।