বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনি পরামর্শক লর্ড কারলাইলকে ভারতে ঢোকার অনুমতি না দিতে নয়াদিল্লিতে জোরালো সুপারিশ পাঠিয়েছে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন। নয়াদিল্লির উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্রে গতকাল শুক্রবার রাতে এ খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।

লর্ড কারলাইলের এ সপ্তাহেই নয়াদিল্লি সফর করার এবং ১৩ জুলাই ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা ও কারাদণ্ড নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার কথা। তবে এখনো তিনি ভারতীয় ভিসা পাননি বলে জানা গেছে।

ঢাকায় কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের উষ্ণতম এই সময়ে বিদেশি একজন আইনজীবী ভারতে গিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে কার্যত বাংলাদেশের আদালতের রায়ের সমালোচনা করবেন এবং সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলবেন এটি অকল্পনীয় বিষয়। বাংলাদেশ সরকার এ দেশের ভূখণ্ড ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না দেওয়ার জোরালো নীতি অনুসরণ করে আসছে।

সূত্র মতে, লর্ড কারলাইলের ভারত সফরের পরিকল্পনার বিষয়টি সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর সরকারে অস্বস্তি দেখা দেয়। সরকারের নির্দেশে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ প্রতিনিধি গত সপ্তাহে ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার আদর্শ সোয়াইকার কাছে কারলাইলের সফরের বিষয়ে জানতে চান।

সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকরা বলছেন, লর্ড কারলাইল তাঁর ভারত সফরে কোনো রাজনীতি নেই বলে দাবি করলেও কার্যত এটি রাজনীতির অংশ। নয়াদিল্লিতে বসে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

ভারতীয় সূত্রগুলো বলছে, তারাও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কে কোনো অবিশ্বাস বা তিক্ততা চায় না। ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন নয়াদিল্লিকে কারলাইলের বিষয়ে সুপারিশ করেছে। এখন নয়াদিল্লির নীতিনির্ধারকরা ঠিক করবেন, তাঁরা কারলাইলকে ঢুকতে দেবেন কি না।

খালেদা জিয়ার আইনি পরামর্শক হিসেবে লর্ড কারলাইলকে নিয়োগ দেওয়ার কথা বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত ২০ মার্চ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলাসংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ দিতে এবং তাঁর অবস্থান তুলে ধরতে সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশে আসার জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু এখনো তিনি ভিসা পাননি। বাংলাদেশের ভিসা পেতে দেরি হওয়ায় লর্ড কারলাইল ভারতে গিয়ে সংবাদ সম্মেলন করার কথা ঘোষণা করেন।

পক্ষ নিয়েছিলেন যুদ্ধাপরাধীদেরও: লন্ডনে বসে নানা ভূমিকা রাখার কারণে বাংলাদেশে আলোচিত, বিতর্কিত হন লর্ড কারলাইল। লন্ডনে বাংলাদেশের রাজনীতি ও ঘটনাবলি নিয়ে কারলাইলের অতি আগ্রহের কারণ নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার, আদালতের রায় ও দোষীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা নিয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়ামূলক লেখালেখিও ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। মীর কাসেম আলীসহ জামায়াত নেতাদের বিচার ও ফাঁসির বিরোধিতা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সমালোচনায়ও মুখর ছিলেন তিনি।

মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বাতিল করার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছিলেন লর্ড কারলাইল। যুদ্ধাপরাধের বিচার ঠেকাতে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছিলেন তিনি।

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষ হাউস অব লর্ডসের সদস্য কারলাইল ব্রিটেনের শীর্ষস্থানীয় আইনজ্ঞদের অন্যতম। পোলিশ ইহুদি অভিবাসী পরিবারে তাঁর জন্ম ১৯৪৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি। লন্ডনের কিংস কলেজ থেকে আইনে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন ১৯৬৯ সালে।

সূত্র:কালের কণ্ঠ