আওয়ামী লীগের উপকমিটির সহসম্পাদক পদ নিয়ে ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা বিক্ষোভ ও তোপের মূখে পড়ার বিষয়টি অস্বীকার করে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিক্ষোভ ও তোপে পড়ার ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত সব সংবাদ ভুল।
অপর দিকে আগামী নির্বাচনে বিএনপি কী রূপরেখা দেয় সেটা দেখার অপেক্ষায় আছেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
রবিবার সচিবালয়ে সেতু মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির নেতারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা চেয়েছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনকালীন কোনো রূপরেখা দেবেন না। রূপরেখা দেবে তো বিএনপি। তারা কী রূপরেখা দেয় আমরা সেটা দেখার অপেক্ষায় আছি।
তিনি বলেন, নির্বাচনে অংশ নেয়া বিএনপির অধিকার। তবে অংশ নেয়ার বিষয়ে আওয়ামী লীগের কিছুই করার নেই। বিএনপি নেতাদের বক্তব্য শুনে মনে হয়, বর্তমান নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিরপেক্ষ নয়। কিন্তু আপনারা বলেন, রংপুর সিটি করপোরেশনের মতো জায়গায় ইসি নিরপেক্ষ নির্বাচন করেছে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তারপরও যদি ইসিকে নিরপেক্ষ মনে না হয় তাহলে আমাদের কী করার আছে?
উল্লেখ্য, ২০ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগ নেতাদের তোপের মুখে পড়েন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে কথা বলছিলেন ওবায়দুল কাদের। ওই সময় সাবেক কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা কক্ষটির সামনে বিক্ষোভ শুরু করে কক্ষটির দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেয়। তখনো বিক্ষোভ ও স্লোগান অব্যাহত রাখেন নেতারা।
এ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি একজন মুসলমান, আমি কি নামাজও পড়তে পারব না। আমি দরজা বন্ধ করে একাকী নামাজ পড়লেও আপনারা লিখে দেন আমি জানি কী করছিলাম। এগুলো তো সুস্থ সাংবাদিকতা না।
তিনি আরো বলেন, আপনাদের তো অবাধ স্বাধীনতা আছে। নিউজগুলো প্রকাশ করার আগে আপনাদের উচিত সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুযায়ী একটু যাচাই-বাছাই করে নেয়া। তাহলে আর ভুল বোঝাবুঝি হয় না।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, কালকের যে ঘটনা নিয়ে আপনারা সংবাদ করেছেন, আমার জানামতে সেখানে কোনো সাংবাদিক ছিল না। তাহলে আপনারাই বলেন, অনেকগুলো পত্রিকায় দেখলাম একই ধরনের সংবাদ। এগুলো দুঃখজনক।
সেতুমন্ত্রী বলেন, আমি পাঁচ বছর জেল খেটেছি। টানা নয় বছর মন্ত্রী, দলের সাধারণ সম্পাদক। এই অবস্থায় এসে আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। দলের জন্য দেশের জন্য সর্বোচ্চটাই আমি এখন দিতে চাই। যেকোনো প্রকারে হোক আরো ওপরে ওঠার মনোভাব আমার নেই। কখনো ছিলও না।
ওবায়দুল কাদের বলেন, গতকাল ধানমণ্ডিতে আমাকে ঘিরে কোনো বিক্ষোভ হয়নি। কোনো কমিটিও গঠন হয় নাই। কমিটি বাতিলও হয় নাই। কমিটি না হওয়া পর্যন্ত আগের কমিটির সদস্যরা সাধারণ সদস্য হিসেবে থাকবেন।
উপকমিটি কেন গঠন করা হয়নি-জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা যাচাই-বাছাই করছি। কোনো অনুপ্রবেশকারী ঢুকে পড়ে কিনা। কোনো মামলার আসামি আছে কি না। এগুলো যাচাই-বাছাই করতেই একটু সময় নিচ্ছি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিষয়টা এমন একটা জায়গায় গেছে যে যেনতেন প্রকারেই হোক কমিটিতে নামটা ঢুকলেই তিনি এলাকায় গিয়ে বিশাল আকারের ছবি দিয়ে ওপরে কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার ছবি দিয়ে পোস্টার-ফেস্টুনে ভরে ফেলেন। এমপিদের সাথ বিরোধে লিপ্ত হন। এই কারণেই আমরা এইবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যাচাই-বাছাই করে দলের ত্যাগী নেতাদের কমিটিতে স্থান দেব।
গতকাল ওবায়দুল কাদেরকে যারা অবরুদ্ধ করে রেখেছিল, তারা অনুপ্রবেশকারী কি না?-জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগেই বলেছি কালকে আমাকে ঘিরে কোনো বিক্ষোভ হয়নি, আমাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়নি।
তাহলে মন্ত্রীর গাড়ি ঘিরে যে বিক্ষোভের ছবি ছাপা হয়েছে সেটা কিসের?-জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, এটা বিক্ষোভের ছবি নয়। তারা আনন্দ উল্লাস করছিল।