গণতন্ত্র রক্ষায় অবদান রাখার জন্য ২০১৮ সালের শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার পাচ্ছেন বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, আপসহীন নেত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছে দেশি বিদেশী বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক ও মানবাধিকার সংগঠন। এদিকে বিনা ভোটে নির্বাচিত আওয়ামীলীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৭ সালের শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার পেতে পারেন এমন জল্পনা কল্পনা আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা তুললেও শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনার নাম সংক্ষিপ্ত লিস্টেও ছিলনা বলে জানায় নোবেল কমিটি।
দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বেগম খালেদা জিয়া নিজে জেল কেটেছেন, শেখ হাসিনার সরকার তাকে বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করেছেন, নিজ বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন, বড়ছেলে এবং বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানকে গ্রেফতার করেছে এবং জেলে নির্যাতন করে মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিয়েছে।

শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় এসে বিএনপিকে দলীয় কর্মসূচি পালনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দ্ধারা বিএনপি ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীদের গুম, খুন ও ক্রসফায়ারে হত্যা করেছে। তবুও বেগম খালেদা জিয়া মাথা নোয়াননি। তিনি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় এখনও বলিষ্ট চিত্তে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।

দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের পথ ধরে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠার তান্ডবে বিপর্যস্ত হয় গণতন্ত্র। আওয়ামী লীগসহ কতিপয় রাজনৈতিক দলের সমর্থন-সহযোগিতায় জারি হয় জরুরি অবস্থা। রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে সেনা সমর্থিত ফখরুদ্দীন-মইন উদ্দিন সরকার। এ সময় গণতন্ত্র ধ্বংসের মুখে দাঁড়ায়। আবারো আপসহীন ভূমিকায় নামেন বেগম খালেদা জিয়া। সব ভয়-ভীতিকে উপেক্ষা করে তিনি আপন সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। জরুরি সরকার তাকে দেশত্যাগে বাধ্য করতে চাইলেও \’মরতে হলে এ দেশেই মরবো\’ বলে তিনি দেশত্যাগে অস্বীকৃতি জানান। যার ফলে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় তাকে কারান্তরীণ করা হয়। একই কায়দায় তার জ্যেষ্ঠপুত্র তারেক রহমান ও কনিষ্ঠপুত্র আরাফাত রহমানকেও কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়। কারাগারে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে তারেক রহমানের মেরুদন্ডের হাড় ভেঙে দেয়া হয়।

২০০৮ সালের একটি বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। ক্ষমতাসীন হয়েই তারা দেশে একদলীয় শাসন কায়েমের লক্ষ্যে বিরোধী দল বিশেষ করে বিএনপির ওপর জুলুম-নির্যাতন চারাতে শুরু করে। আবারো বেগম খালেদা জিয়া জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নামেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার যে সংগ্রাম বর্তমানে চলছে, বেগম খালেদা জিয়া তার নেতৃত্ব দিচ্ছেন অত্যন্ত দূরদৃষ্টি বিচক্ষণতা নিয়ে। অতীতেও দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র ও অন্যায় দাবির মুখে মাথানত না করার ঐতিহ্য রয়েছে বেগম খালেদা জিয়ার। নিজের কর্তব্য থেকে একচুল সরে না আসা, দেশপ্রেম ও জনগণের প্রতি ভালোবাসা তাকে দুঃসময়ের কান্ডারী হয়ে ১৬ কোটি মানুষকে সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র আর বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখাতে শক্তি জুগিয়েছে। দেশি-বিদেশি চক্রান্তকে রুখে দিয়ে জাতীয়তাবাদী শক্তির উন্মেষ ঘটিয়ে বেগম খালেদা জিয়া জনগণকে পুনরায় এনে দেবেন আলোকিত দিন- এ বিশ্বাস বাংলাদেশের দেশের প্রতিটি মানুষের।

সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও গণতন্ত্রের কথা চিন্তা করে চলতি বছর থেকেই ২০১৮ সালের শান্তিতে নোবেলের জন্য বেগম জিয়াকে নির্বাচিত করা হতে পারে বলে ইতোমধ্যে একটি সম্মেলনে জানিয়েছেন নোবেল বাচাই কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান হেনরিক সেইসি।













bdpress24.com