দেশে বিভিন্ন অঞ্চলের হাইওয়েগুলোতে পুলিশের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ পরিবহন মালিক ও চালকরা। এসব হাইওয়ে পুলিশের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন পরিবহন চালকেরা। তারা প্রতিবাদ করতে গেলেই শুরু হয় পুলিশের নির্যাতন। চাঁদা আদায়ে ব্যর্থ হলে দীর্ঘ সময় আটকে রাখার পর মামলা দিয়ে দেয়।
রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে চাঁদাবাজি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা পরিবহন-সংশ্লিষ্টরা। জানা গেছে, হাইওয়ে পুলিশের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে গতি নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা আনয়ন, প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করা, হাইওয়েতে নিষিদ্ধ এমন সব যানবাহনের চলাচল প্রতিরোধ করা। কিন্তু যেসব কাজ তাদের জন্য নির্ধারিত, তা না করে তারা অন্য কাজ করতেই পছন্দ করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

কুমিল্লায় টোকেন দিয়ে হাইওয়ে থেকে শুরু করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে মাসিক টোকেনের বিনিময়ে দেদার চলছে পুলিশের চাঁদাবাজি।

নারায়ণগঞ্জের ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও বাইপাস হাইওয়েতে পুলিশের চাঁদাবাজি চলছে অপ্রতিরোধ্যভাবে। আবার ঢাকা-চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে যানবাহন থেকে বেপরোয়া চাঁদাবাজি করছে হাইওয়ে পুলিশ।

গাজীপুর-টাঙ্গাইল, গাজীপুর-ময়মনসিংহ ও গাজীপুর-সিলেট মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা বাণিজ্য হচ্ছে। এছাড়া আইন অমান্য করে মহাসড়কে চলাচলকারী সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা আটকের পর ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা আদায় করে মহাসড়কে চলার অনুমতি হাইওয়ে পুলিশ দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, হাইওয়ে পুলিশের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে গতি নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা আনয়ন, প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করা, হাইওয়েতে নিষিদ্ধ এমন সব যানবাহনের চলাচল প্রতিরোধ করা। কিন্তু যেসব কাজ তাদের জন্য নির্ধারিত, তা না করে তারা অন্য কাজ করতেই পছন্দ করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরিবহন-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ট্রাফিক পুলিশ প্রায় প্রতিটি পয়েন্টে গাড়ি থামিয়ে কাগজপত্র চেকের নামে চাঁদা নেয়। কাগজপত্র সঠিক না পেলে তারা খুশি হয়। কোনো না কোনো অজুহাতে পুলিশ টাকা আদায় করেই ছাড়ে। টাকা আদায়ে ব্যর্থ হলে দীর্ঘ সময় আটকে রাখার পর দেওয়া হয় মামলা।

হাইওয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলছেন, গাজীপুরের চন্দ্রায় যানজট নিরসনে সিসিটিভি স্থাপন করা হলেও সারা দেশে যানজট নিরসনে সিসিটিভি স্থাপন খুবই সীমাবদ্ধ পর্যায়ে আছে। জনবল, যানবাহন, আবাসনসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত হাইওয়ে পুলিশ। থানা ও পুলিশফাঁড়ির সংখ্যা বাড়ানোসহ প্রয়োজন মনিটরিংয়ের। এগুলো নিরসন হলেই যানজট কমে যাবে। বন্ধ হবে চাঁদাবাজি।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রিয় সংবাদ