খুব বেশিদিন নয়, বছর খানিক আগের কথা, অভাবের তাড়নায় শিশুটিকে আস্তাকুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল তার পরিবার। সে সময় আবর্জনার স্তুপ থেকে শিশুটিকে যখন উদ্ধার করা হয়, তখন নিশ্চল চোখজোড়া।
ধুলা-ময়লা মাখা নগ্ন শীরের আপাদমস্তক চরম অপুষ্টির চিহ্ন। হাড্ডিসার সেই শরীর যে তখনও বেঁচে, বুকের খাঁচার ধুকপুকানি তা জানান দিচ্ছিল। আর কয়েক ঘণ্টা এভাবে পড়ে থাকলে, হয়তো মারাই যেত শিশুটি।
একবছর আগের শিশুটিকে উদ্ধারের সেই ছবি ইন্টারনেটে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল। ছবিতে দেখা যায়, এক শেতাঙ্গ নারী অপার স্নেহে শিশুটিকে পানি খাওয়াচ্ছেন। একহাতে মুখে ধরা মিনারেল ওয়াটারের বোতল, অন্য হাতে খাবারের প্যাকেট।
এক বছর আবারও ইন্টারনেটে পোস্ট হয়েছে সেই একই ধরনের ছবি। মুখে ধরা পানির বোতল। কিন্তু, তার মধ্যেই আমূল পরিবর্তন। এক বছর আগের নাইজেরিয়ার সেই শিশুটিই যে সে, না-বললে, শুধু দেখে চেনার উপায় নেই।
অপুষ্টির আর ছিটেফোঁটাও চিহ্ন নেই শরীরে। অন্য পাঁচটা সুস্থ-স্বাভাবিক শিশুর মতো এখন সে স্কুলেও যাচ্ছে। আফ্রিকায় কর্মরত যে ডেনিশ এনজিও কর্মী শিশুটিকে উদ্ধার করেছিলেন, সেই আনিয়া রংগ্রেন লভেনই ছবিটি পোস্ট করেছেন। বাচ্চাটির নাম রাখা হয়েছে হোপ।