বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ভিসি অধ্যাপক কামরুল হাসান খানের বিরুদ্ধে প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. জাকারিয়া স্বপনকে জামার কলার চেপে ধরে গালিগালাজ করার অভিযোগের বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ভিসির কক্ষে সংঘঠিত অপ্রীতিকর ওই ঘটনাটি চিকিৎসকদের আলোচনার অন্যতম বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
 
শুক্রবার সরকারি ছুটির দিনেও ভিসি তার অফিস কক্ষে বিএমএ নেতা ও অন্যদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকরা দেশের একমাত্র মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ দুই কর্মকর্তা ও সিনিয়র অধ্যাপকের দ্বন্দ্বকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য  করেছেন।তাঁরা বিএসএমএমইউর সুনাম রক্ষায় আশু পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন।
ভিসি ও প্রোভিসির দ্বন্দ্বের জের ধরে বৃহস্পতিবার ভিসির কক্ষে প্রো-ভিসি (শিক্ষা) ও প্রক্টরের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের অনুসারীদের মারমুখী অবস্থান ও উত্তেজনা এবং প্রক্টরকে গালিগালাজের বিষয়টি সরকারের শীর্ষ মহল পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ভিসি নিজে প্রো-ভিসিকে মারধর করেছেন এমন  অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভিসি বেশ বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন। ভিসি তাদের ঘনিষ্টজনদের কাছে বলেছেন, স্বপন শুধু  আমার সুনাম ক্ষুণ্নই করেনি, জবাই করে ফেলেছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সর্বোপরি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে তিনি হিতাকাঙ্খীদের সঙ্গে আলোচনা করে উপায় খুঁজছিলেন।
জানা গেছে, সেদিন প্রোভিসি (শিক্ষা) ভিসির কক্ষে প্রবেশের পর থেকেই আক্রমণাত্মক কথাবার্তা শুরু করেন।এ সময় কেউ একজন কনফারেন্স কক্ষের অডিও রেকর্ড চালু করে দেন। ওই সময় কে কি বলেছিল (প্রো-ভিসির সঙ্গে প্রক্টর হাবিবুর রহমান দুলালের বাদানুবাদ ও ভিসি ও অন্য প্রো-ভিসির কথাবার্তা) ৩০ মিনিটের অডিও রেকর্ড রয়েছে। ওই রেকর্ড শুনলে যে কেউ সহজেই বুঝতে পারবেন কে কতটুকু দোষী।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভিসির ঘনিষ্ট একজন শুক্রবার দুপুরে জাগো নিউজকে জানান, ভিসির বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গ্রুপ ষড়ষন্ত্র করছে। অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের সুযোগ না পেয়ে ভিসির বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাকে ভিসির পদ থেকে সরিয়ে দেয়ারও অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। ভিসি ৩০মিনিটের ওই রেকর্ড গণমাধ্যম কর্মীদের সংবাদ সম্মেলন করে জানানোর চিন্তাভাবনা করছেন বলে জানান তিনি।
ভিন্ন একটি সূত্র জানায়, শুক্রবার ছুটির দিন হলেও ভিসি তার অফিস কক্ষে বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, বিএমএর সাবেক নেতা অধ্যাপক ডা. কাজী শহীদুল আলম, প্রো-ভিসি অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক ডা. আবু নাসের রিজভিসহ অন্যান্যদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন। সূত্রের দাবি, ভিসি অবৈধভাবে নার্স নিয়োগের অভিযোগের দায় এড়ানোর উপায় খুঁজছেন। তার গোয়ার্তুমির কারণে বিএসএমএমইউতে অচলাবস্থার সৃষ্টি হতে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সিনিয়র অধ্যাপক জাগো নিউজকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন প্রকার অস্থিতিশীলতা দেখা দিলে নিয়মানুসারে বিভিন্ন অনুষদের ডীনসহ সিনিয়র অধ্যাপকদের নিয়ে পরিস্থিতি উত্তরণে বৈঠকে বসবার কথা থাকলেও কোন ডীনকে ভিসি ডাকেননি। তিনি  বাইরের (অধিকাংশই বিশ্ববিদ্যালয়ের নন) লোকজনকে নিয়ে বৈঠক করেছেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ভিসি বলেন, এটা কোন আনুষ্ঠানিক বৈঠক ছিল না। তিনি অন্যান্য শুক্রবারও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটে আসেন। আজ অ্যাটর্নি জেনারেলসহ কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয়ে আসায় তিনি এসেছেন।এ সময় বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ও প্রো-ভিসিসহ কয়েকজন উপস্থিত থাকায় তিনি কথা বলেন।৩০ মিনিটের অডিও রেকর্ড প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বৃহস্পতিবার সকালে বিএসএমএমইউর ভিসি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খানের অফিস কক্ষে ভিসি ও প্রক্টর হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. জাকারিয়া স্বপনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতের  ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জেরে ডা. স্বপনের অনুসারী জুনিয়র চিকিৎসকরা প্রক্টর হাবিবুর রহমান দুলালকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতের চেষ্টা ও তার অফিস কক্ষের দরজা ভেঙে ফেলে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএসএমএমইউ ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ভিসি ও প্রো-ভিসির সমর্থকরা মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে মারমুখী হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শাহবাগ থানা পুলিশ ছুটে যায়।