১৯৯৮ সালে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল সিলেটের এমএজি ওসমানী বিমানবন্দরকে।
এরপর ১৭বছর পর ২০১৫ সালের ১ মে ওসমানী বিমানবন্দরে প্রথমবারের মতো অবরতরণ করে ফ্লাই দুবাই। কিন্তু গ্রাউন্ড সার্ভিস না পাওয়ায় ১ মে যাত্রী নিয়ে উড়াল দেয়ার পর আর ওসমানীতে অবতরণ করেনি এই বিদেশী উড়োজাহাজ।
অবশেষে সকল বাধা কাটিয়ে চলতি জানুয়ারি মাস থেকে ফের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিভিন্ন দেশে যাত্রী পরিবহন করবে ফ্লাই দুবাই। এর ফলে প্রথমবারের মতো এই বিমানবন্দরে বিদেশী এয়ারবাসের সার্ভিস চালু হবে। এরমাধ্যমে প্রথমবারের মতো চালু হচ্ছে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও।
কেবল ফ্লাই দুবাই-ই নয়, এয়ার এরাবিয়া, জেট এয়ারসহ কয়েকটি বিদেশি কোম্পানি সিলেট থেকে সরাসরি ফ্লাইট চালুর প্রক্রিয়া চালাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এর আগে ওসমানী থেকে বাংলাদেশ বিমানের সিলেট-যুক্তরাজ্যে হিথ্রো বিমানবন্দরে সরাসরি ফ্লাইট চালু চলেও ২০১৪ সালে কুয়াশার অজুহাত দেখিয়ে বিমানও সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়।
জানা যায়, ১৯৯৮ সালের ২০ ডিসেম্বর ওসমানী বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে উন্নীত করা হয়। তবে রানওয়ের অপ্রতুলতা ও রিফুয়েলিং সুবিধা না থাকায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত হওয়ার পরও দীর্ঘদিন ওসমানী থেকে ছিল না কোনো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট।
তবে সম্প্রতি রানওয়ে সম্প্রসারণের পর নির্মিত হয় রিফুয়েলিং স্টেশন। গত বছর থেকে এই রিফুয়েলিং স্টেশন চালু হয়। এরপর ১ মে থেকে বিদেশী উড়োজাহাজ অবতরণ শুরু হলেও একদিন পরই তা থেমে যায়।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রিজেন্ট এয়ারওয়েজের ফ্লাইট ‘গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে’র অনুমতি রয়েছে। ফ্লাই দুবাই তাদের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে গত বছর ফ্লাইট অপারেট শুরু করে। কিন্তু এতে বেঁকে বসে বিমান কর্তৃপক্ষ। বিমানের কাছ থেকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিংয়ের অনুমতি না নেয়ায় বন্ধ হয়ে যায় ফ্লাই দুবাই’র ফ্লাইট। এতে বিপত্তিতে পড়েন সিলেটের প্রবাসীরা। বিদেশী উড়োজাহাজ চালুর দাবি তুলেন তারা।
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, সিলেট বিমানবন্দর দিয়ে প্রতিদিন ৬-৭শ’ প্রবাসী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাতায়াত করেন। কোনো বিকল্প না থাকায় বিমানের ফ্লাইটের উপরই তাদের নির্ভর করতে হয়।
তবে প্রবাসীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের উচ্চ মহলের তৎপরতায় বিদেশী উড়োজাহাজের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর। গত মাসে অর্থমন্ত্রণোলয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে ও বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের উপস্থিতি এক সভায় জানুয়ারি থেকে ওসমানীতে বিদেশী কোম্পানীর ফ্লাইট চালুর সিদ্ধান্ত হয়।
এ ব্যাপারে ফ্লাই দুবাই সিলেট অফিসের ম্যানেজার সিরাজুল ইসলাম মুকুল বলেন, আশা করা হচ্ছে আগামী জানুয়ারি মাসের শেষদিকে ফ্লাই দুবাই সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করতে পারবে। ইতিমধ্যে সিভিল এভিয়েশনের ছাড়পত্র পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, ফ্লাই দুবাই সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রিজেন্ট এয়ারওয়েজের গ্রাউন্ড সার্ভিস নেবে। রিজেন্ট আগামী মাসের প্রথম দিকে আরো যন্ত্রপাতি আনবে বলে জানান তিনি। তিনি জানান, ফ্লাই দুবাই সপ্তাহে প্রতিদিন দুবাই, কাতার, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যাতায়াত করবে। এতে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী যাত্রীরা কিছুটা সুবিধা আদায় করবেন। তারা দুবাই ট্রানজিট নিয়ে সরাসরি সিলেট চলে আসতে পারবেন।
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হাফিজ আহমদ বলেন, সিলেট থেকে দুবাই-জেদ্দা হয়ে লন্ডন ফ্লাইট চালুর ব্যাপারে ‘যাত্রা বিরতি’ এবং ‘রিফুয়েলিং’-এর জন্য ঐ দেশের বেসামরিক বিমান চালনা কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রাপ্তির প্রয়োজন, কারণ সিলেট থেকে দুবাই, জেদ্দা ফ্লাইটের ৬ থেকে সাড়ে ৬ ঘণ্টা সময়ের প্রয়োজন এবং এই সময়ের মধ্যে রিফুয়েলিংয়ের দরকার পড়ে না। কিন্তু সিলেট-লন্ডন ফ্লাইটের জন্য ‘রিফুয়েলিং’ ও যাত্রা বিরতির প্রয়োজন। এতে সংশ্লিষ্ট দেশের বেসামরিক বিমান চালনা কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এজন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
moralnews24.