তৌকির আহমেদ একজন অভিনেতা, চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং লেখক। তিনি ১৯৮০’র দশকের শেষের দিকে তার অভিনয় জীবনের শুরু হয়। নাটক ও চলচ্চিত্র দুই মাধ্যমেই তিনি অভিনয় করেন। পরবর্তীতে লন্ডনের রয়্যাল কোর্ট থিয়েটার থেকে মঞ্চ নাটক পরিচালনার প্রশিক্ষন গ্রহণ এবং নিউইয়র্ক ফিল্ম একাডেমি থেকে চলচ্চিত্রে ডিপ্লোমা করে তিনি নাট্য ও চলচ্চিত্র পরিচালনা শুরু করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র জয়যাত্রা পরিচালনার মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া তার পরিচালিত কয়েকটি চলচ্চিত্র আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রে উৎসবে অংশগ্রহণ করে এবং পুরস্কার লাভ করে। পাশাপাশি তার রচিত তিনটি বই অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয়েছে। সম্প্রতি প্রথমবার ’ব্ল্যাকমেইল’ শিরোনামে একটি ওয়েব সিরিজে অভিনয় করলেন তৌকীর আহমেদ। ওয়েব প্ল্যাটফর্মে কাজের অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হলো তার সঙ্গে।
’ব্ল্যাকমেইল’ ওয়েব সিরিজে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

তৌকির আহমেদ: বেশ ভালো। ওয়েব সিরিজে প্রথমবার অভিনয় করেছি। তবে এ মাধ্যমে নির্মাণে বেশ কিছু পার্থক্য থাকলেও অভিনয়ের তো তেমন একটা গুণগত পার্থক্য হয় না। মঞ্চ, টেলিভিশন, ওয়েব সিরিজ কিংবা চলচ্চিত্র যে কোনো মাধ্যমে একজন অভিনেতাকে চরিত্র অনুযায়ী অভিনয় করতে হয়। ওয়েব সিরিজে আমার অভিনীত পুলিশ চরিত্রে সে চেষ্টাই করেছি। সেই অফিসারের বাড়িতে আচমকা সন্ত্রাসী ঘটনা নিয়েই ওয়েব সিরিজটির গল্প সাজানো। আর বি প্রীতমের পরিচালনায় এতে আমার সহশিল্পী হিসেবে নুসরাত ইমরোজ তিশাও অভিনয় করেছেন।

ওয়েব সিরিজ নির্মাণশৈলীতে পার্থক্যের কথা বলছিলেন, আদতে টিভি নাটক থেকে ওয়েব প্রযোজনা কতটা আলাদা?

তৌকির আহমেদ: বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। প্রথমত বাজেটের দিক থেকে ওয়েব প্ল্যাটফর্ম অনেক বেশি সমৃদ্ধ। ভালো কাজের জন্য মানসম্মত বাজেট কার্যকর ভূমিকা পালন করে। বাজেটের পাশাপাশি ওয়েব সিরিজের কনটেন্টেও বৈচিত্র্য রয়েছে। এমনকি পোস্টার ডিজাইন থেকে শুরু করে প্রিপ্রোডাকশনের সার্বিক কাজে পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়, যা টিভি নাটকের ক্ষেত্রে তেমন একটা পাওয়া যায় না। টিভির জন্য নির্মিত নাটকে নির্দিষ্ট বাজেটের মধ্যে নির্মাণ করতে হয়। বেশিরভাগ সময়ে সে বাজেট দিয়ে একটি ভালো নাটক নির্মাণ করা কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। তাই অনেকে তাড়াহুড়া করে যাচ্ছেতাইভাবে নাটক নির্মাণ করে যাচ্ছেন। এতে নাটকের মান দিন দিন নেমে যাচ্ছে। আরেক সমস্যা বিজ্ঞাপনের আধিক্য। একটি নাটকে কতক্ষণ বিজ্ঞাপন প্রচার করা হবে তার নির্দিষ্ট সীমারেখা থাকা উচিত।

নতুন ছবি নিয়ে কোনো পরিকল্পনা করেছেন?

তৌকির আহমেদ: ছবির জন্য অনুদান চেয়েছিলাম, পাইনি। ফান্ড জোগাড় হলেই নতুন ছবির কাজ শুরু করব। হয়তো এ বছরের শেষের দিকে নতুন ছবির ঘোষণা দিতে পারব।

জীবনে কখনও প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব করেছেন?

তৌকির আহমেদ: চাওয়া-পাওয়ার হিসাব কষে কখনও সময় নষ্ট করিনি। অভিনেতা ও নির্মাতা হিসেবে অগণিত মানুষের ভালোবাসা, সম্মান, স্বীকৃতি অনেক কিছুই পেয়েছি। এটিই আমার বড় পাওয়া। তার পরও সৃষ্টির নেশায় থাকা প্রত্যেক মানুষের জীবনে কিছু অতৃপ্তি থেকে যায়। অনেক সময় আমরা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারি না। ভালো কাজ নিয়ে সবসময় স্বপ্ন বুনি। সব সময় তা পূরণও হয় না। তবুও এগিয়ে চলছি। আমার কাছে সব সময় মনে হয়, নিজের সেরাটা এখনও দিতে পারিনি। কবে সেটি দিতে পারব জানি না। সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি। প্রসঙ্গত, এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস প্রজনন কেন্দ্র হালদা নদী নিয়ে তৌকির নির্মাণ করেন তার পঞ্চম চলচ্চিত্র হালদা (২০১৭)। চলচ্চিত্রটি ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত ১৬তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয় এবং তৌকির আহমেদ শ্রেষ্ঠ পরিচালকের পুরস্কার লাভ করেন।