পটুয়াখালীকে বলা হয় সমুদ্র কন্যা। বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের জেলা পটুয়াখালী। বঙ্গোপ সাগরের তীর জনপদের মানুষের মূল পেশা মৎস শিকার ও কৃষিকাজ। তাদের সন্তান লেখাপড়া করবে, মানুষের মতো মানুষ হবে এক সময় এটা ছিলো অকল্পনীয়। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে আজ বাংলাদেশকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এই জনপদের লোকজন। প্রশাসনের সকল স্তরে তাদের অবাধ পদচারনা। জ্যেষ্ঠদের পদাঙ্ক অনুশরন করে অনুজরাও আসছেন দেশ ও মানুষের কল্যাণের নেতৃত্বে।
গত ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে (ডাকসু) এই জেলার চার কৃতি শিক্ষার্থী সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। চার শিক্ষার্থী হচ্ছেন নুরুল হক নুর (ভিপি, ডাকসু), মোহাম্মদ আরিফ ইবনে আলী (বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক, ডাকসু), মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান (সদস্য, ডাকসু) এবং ফাতিমা তাহসিন (সহ-সাধারন সম্পাদক, শামসুন নাহার হল সংসদ)।
নুরুল হক নুরের বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার এক প্রত্যন্ত চর বিশ্বাস গ্রামে। গ্রামের বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি পেয়ে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন নুরুল। গাজীপুর থেকে নুরুল এসএসসি এবং ঢাকার উত্তরা মডেল কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ভর্তি হন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দিয়ে ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমেই সবার নজরে আসে নুর। গত বছরের ৪ অক্টোবর সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল করে পরিপত্র জারি হয়। এরপর সেই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সহযোগীদের নিয়েই ডাকসুতে লড়তে আসেন নুর। সহসভাপতি (ভিপি) পদে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে হারিয়ে তিনি ভিপি নির্বাচিত হন।
পটুয়াখালীর মির্জগঞ্জ উপজেলার কৃতি শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আরিফ ইবনে আলী। বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বিগত কমিটির সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি সোসাইটির সাবেক সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি আন্দোলনের অন্যতম কর্মী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল প্রযুক্তি আন্দোলনের অগ্রভাগের এ নেতা ছাত্রলীগ-সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেলের ব্যানারে নির্বাচন করে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রযুক্তি নির্ভর করতে আস্থা রেখে এই নেতাকে ’বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক’ হিসেবে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করে।
পটুয়াখালীর মির্জগঞ্জ উপজেলার আরেক কৃতি শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান। ঢাকা বিশ্বাবদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের গত কমিটির সহসভাপতি ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের ১৯টি সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে কাজ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী এ ছাত্র। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে সম্পৃক্ত থেকে তাদের তাদের আস্থার জায়গা অর্জন করে ডাকসু নির্বাচনে ব্যাপক ভোট পেয়ে সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। হাজী মোহাম্মদ মুহসিন হলের আবাসিক ছাত্র মাহমুদ ছাত্রলীগ-সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেল থেকে লড়েছিলেন।
পটুয়াখালীর মির্জগঞ্জ উপজেলার মেধাবী শিক্ষার্থী ফাতিমা তাহসিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী। শামসুন নাহার হলের আবাসিক এ শিক্ষার্থীর ওপর আস্থা রেখে হলের সাধারণ ছাত্রীরা ডাকসু নির্বাচনে সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বিজয়ী করেছে তাকে। স্বতন্ত্র প্যানেল থেকে লড়েছে সে।

সূত্র:আমাদেরসময়