বিশ্ব জুড়ে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ অধিক মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের প্রবাসীরাও বিপাকে পড়েছে। বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অসংখ্য বাংলাদেশী বসবাসরত অবস্থায় রয়েছে। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে অনেকেই ইতিমধ্যে দেশে ফেরত এসেছে। বাংলাদেশ সরকার করোনাভাইরাস মোকাবিলার জন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহন করেছে। এরই লক্ষ্যে প্রবাসীদের কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আছে কিনা নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রবাসীদের বিশেষ পর্যবেক্ষন করছে।
শরীয়তপুরে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে না থেকে ঘোরাঘুরি করার দায়ে দুই ইতালী প্রবাসীকে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধায় শরীয়তপুর সদর উপজেলার ‌প্রেমতলা এলাকায় প্রকা‌শ্যে চলাফেরা করায় এক প্রবাসীকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহাবুর রহমান শেখ। ওই প্রবাসীর বাড়ি ন‌ড়িয়া উপজেলার লোনসিং গ্রামে। সে গত ১৪ মার্চ ইতালী থে‌কে দেশে ফি‌রে বা‌ড়ি‌তে না থে‌কে আত্মীয়ের বাড়ি প্রেমতলায় এলাকায় চ‌লে আসেন। এ সময় পালং মডেল থানা পুলিশের একটি দল সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

এ‌দি‌কে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় নড়িয়া উপজেলার লোনসিং এলাকার আরেকজন ইতালি প্রবাসীকে প্রকাশ্যে চলাফেরা করার দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসিল্যান্ড মো. সাইফুল ইসলাম। ওই প্রবাসী গত ৬ মার্চ ইতালী থেকে দেশে ফিরে নিজ বাড়িতে আসেন। সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহাবুর রহমান শেখ জানান, যে সব প্রবাসী সম্প্রতি দে‌শে এসেছেন তাদের সরকারি নির্দেশে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে। কিন্তু ১৪ দিন না থে‌কে ওই ইতালী প্রবাসী বন্ধুদের সঙ্গে পালং উত্তরবাজার ও ‌প্রেমতলা এলাকায় ঘোরাঘুরি করছিলেন। তাই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাকে ২৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড করা হ‌য়ে‌ছে। তাকে নজরদারীতে রাখা হয়েছে, ১৪ দিন যেন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকেন।

নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসিল্যান্ড মো. সাইফুল ইসলাম ব‌লেন, আইন না মে‌নে চলা‌ফেরা করায় আরেক ইতালী প্রবাসী‌কে ৫০ হাজার টাকা জ‌রিমানা করা হ‌য়ে‌ছে। এ অ‌ভিযান অব্যাহত থাক‌বে। শরীয়তপু‌র জেলায় মোট এ পর্যন্ত মোট ২১০ জন প্রবা‌সীকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হ‌য়ে‌ছে। এর আগে গতকাল সোমবার হোম কোয়ারেন্টাইনে না থাকায় এক সৌ‌দি প্রবাসী‌কে ৫ হাজার টাকা জ‌রিমানা ক‌রে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

উল্লেখ্য, বর্তমান বিশ্বের ১৬০টি দেশ করোনাভাইরাসে আক্রান্তের শিকার। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বের অনেক মানুষ প্রান হারিয়েছে। এবং দিন দিন বাড়ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা। বাংলাদেশের মানুষও ভীতির মধ্যে রয়েছে এই ভাইরাসকে ঘিরে। বাংলাদেশের সরকারের পক্ষ থেকে নানা ধরনের সর্তকতামূলক পদক্ষেপ গ্রহন করেছে করোনাভাইরাস মোকাবিলার জন্য।