২০১৮ সালের ৩০শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছিল বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে অধিকাংশ কেন্দ্রে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট কার্য পরিচালান করে নির্বাচন কমিশন। এবং বিপুল ভোটে জয় লাভ করে আওয়ামীলীগ দল। এই জয়ের মধ্য দিয়ে সারা দেশে সমালোচনার সম্মুখীন হয় নির্বাচন কমিশন এবং অনেক অভিযোগ উঠে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। ভোট সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ হয়নি এবং নির্বাচনে অনেক কারচুপি হয়েছে এমন ও অভিযোগ উঠে সমগ্র দেশ জুড়ে। সকল বির্তককে উপেক্ষা করে বাংলাদেশের সরকার গঠন করে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগ।
সরকার উন্নয়নের নামে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা এবং নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেছেন, এ দেশের মানুষের এখন এমন অবস্থা হয়েছে যে, মানুষ পেঁয়াজ, আদা, লবণ, তেল কিনতে দাম নিয়ে চিন্তা করতে হয়। সরকার টেলিভিশনে পদ্মা সেতুর স্প্যান দেখিয়ে বলে ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে। আমার পেটে খিদের আগুন, আমার জীবন ওষ্ঠাগত। ওনারা শুধু পদ্মা সেতু আর ফ্লাইওভার দেখান। মনে হয় আমরা ফ্লাইওভার খেয়ে বেঁচে থাকব। এত বড় প্রতারণার রাজনীতি গত ৪৯ বছরে আমরা দেখিনি।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আদর্শ নাগরিক আন্দোলন আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন বাতিল, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ ও নতুন নির্বাচনের দাবিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানুষের দুর্বিষহ অবস্থার সমালোচনা করে মান্না বলেন, দুর্নীতি হয় ব্যাংকে, ব্যাংকগুলো নিঃস্ব। দুর্নীতি হয়েছে শেয়ারবাজারে। শেয়ারবাজারের মানুষ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। আমাকে বলেন তো, সামরিক বাহিনী কী করবে? সামরিক বাহিনীকে বলেন, এই যে ইব্রাহিম খালেদের রিপোর্ট। এই যে লাখ লাখ কোটি টাকা চুরি করেছে। শেয়ারবাজার ধ্বংস করেছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে।

উল্লেখ্য, মাহমুদুর রহমান মান্না একজন রাজনীতিবীদ। তিনি পূর্বে রাজনৈতিক ভাবে বাংলাদেশের আওয়ামীলীগ দলের সাথে যুক্ত ছিলেন। এবং আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি ছাত্র জীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালযয়ের ছাত্র ইউনিয়নের ডাকসুর সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এবং তিনি নাগরিক ঐক্য সংগঠনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং আহ্বায়ক।