বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ। এই দেশের সীমান্ত ঘিরে অনেক দেশ রয়েছে। দক্ষিন এশিয়ার অর্ন্তভূক্ত দেশ বাংলাদেশ। প্রতিদিন বাংলাদেশ থেকে অংসখ্য মানুষ বিভিন্ন দেশে যাতায়ত করছে। বিমান ব্যবস্থা ছাড়া ও সড়ক পথ অবলম্বন করছে মানুষ এই যাতায়তের জন্য এবং বিদেশী অনেক ব্যাক্তিরাও আসা-যাওয়া করছে এই বাংলাদেশে। বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি বর্ডার রয়েছে। এই সকল স্থান থকে মানুষ যাতায়ত করে থাকে। তবে সব কয়টি বর্ডার উন্নত প্রযুক্তি সম্পন্ন নয়। অনেক বর্ডারে অনেক ধরনের ত্রুটি রয়েছে।
পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশনে নেই থার্মাল স্ক্যানার, মৌখিক জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেয়া হচ্ছে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের। দেশের একমাত্র চর্তুদেশীয় স্থলবন্দর বাংলাবান্ধায় নেই থার্মাল স্ক্যানার। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে স্থল বন্দরের ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এলাকায় মেডিকেল টিম কাজ করলেও স্বাস্থ্য পরীক্ষার যন্ত্রপাতি না থাকায় উদ্বিগ্ন যাত্রীরা। গত একমাসে এ স্থল বন্দর দিয়ে প্রায় ১৫ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেছেন। সম্প্রতি চীনে করোনা ভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করায় রোগ প্রতিরোধে দেশের প্রতিটি ইমিগ্রেশনে মতো বাংলাবান্ধায় বসানো হয়েছে মেড়িকেল টিম। করোনা ভাইরাস পরীক্ষা বা স্বাস্থ্য পরীক্ষার মতো কোনো ধরনের যন্ত্রপাতি নেই মেড়িকেল টিমটির কাছে। শুধু প্রাথমিকভাবে পাসপোর্ট যাত্রীদের মাঝে দিয়ে যাচ্ছে পরার্মশ।

এদিকে স্পর্শকাতর এ ভাইরাসের বিষয় নিয়ে দায়সারা ভাবে অবহেলা করার কারণে অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন চলাচলরত পাসপোর্ট যাত্রীরা। পাসপোর্টধারী যাত্রীরা জানান, বাংলাবান্ধার স্থলবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নেই কোনো যন্ত্রপাতি। দ্রুত থার্মাল স্ক্যানার বসানোর দাবি জানান তারা। চীনের প্রতিবেশী দেশ ভারত, নেপাল ও ভুটান হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পথ দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে ’করোনা ভাইরাস’ বিষয়ক সতর্কতা জারি করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। কিন্তু চীনের মহামারি আকার ধারণ করা নোভেল করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও শনাক্তকরণের জন্য বাংলাবান্ধায় মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হলেও করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় শুধু দু’জন স্বাস্থ্যকর্মী দিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে চলছে মেডিকেল ক্যাম্পের কার্যক্রম।

গত মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের একটি কক্ষে মেডিকেল টিমের এ কার্যক্রম চালু করে। তবে মেডিকেল ক্যাম্পে যন্ত্র বা শনাক্তকরণ মেশিন না থাকায় মাত্র একজন সরকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও একজন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে এ মেডিকেল ক্যাম্পটি। বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন দিয়ে আসা যাত্রীদের মাত্রাতিরিক্ত জ্বর, সর্দি, কাশি, হাচি, শ্বাসকষ্ট, গলা ব্যথা হচ্ছে কি না শুধু তাই জিজ্ঞাসাবাদে চলছে করোনা ভাইরাস নির্ণয়। মেডিক্যাল ক্যাম্পের সিএইচসিপি জহিরুল হক জহির বলেন, থার্মাল স্ক্যানার ছাড়া গত ৪-৫ দিনে আমরা ৭৪৩ জন রোগী দেখেছি। আমাদের কাছে মাত্র দুটি থার্মোমিটার আছে। যা দিয়ে স্বাস্থ্য পরিক্ষা চলছে। কারো মধ্যে জ্বর বা সর্দি কিছু দেখলে আমরা রেফার্ড করছি অন্যত্র।

তেঁতুলিয়া উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত ) মুহাইমিনুল ফেরদৌস সময় সংবাদকে জানান, আমাদের এ মেডিক্যাল ক্যাম্পে করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণে কোনো যন্ত্রপাতি নেই। থার্মোমিটার দিয়ে জ্বর পরিক্ষা করা হচ্ছে। তবে অন্যকিছু মনে হলে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। এদিকে বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশনের অফিসার ইনচার্জ মো. মকছেদ আলী সময় সংবাদকে জানান, এই চেকপোস্টে দিয়ে গত একমাসে প্রায় ১৫ হাজার পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত করেছেন। তবে এই ইমিগ্রেশন দিয়ে কোনো চীনা নাগরিক যাতায়াত করেননি।

উল্লেখ্য, চীনের উহান প্রদেশে নতুন একটি ভাইরাসের আবির্ভাব ঘটেছে। এই ভাইরাসকে কেন্দ্র করে চীনের মানুষ নানা ভাবে বিপদের সম্মুখীন হচ্ছে। চীনে বসবাসরত বাঙালীরা ও নানা সংকটের মধ্য পড়েছে। এই সংকট নিরসনের জন্য বাংলাদেশ সরকার চীনে বসবাসরতদের বিভিন্ন ভাবে সাহায্য-সহযোগিতার পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন। এবং বাংলাদেশের সীমান্তে দিয়ে আসা-যাওয়া ব্যক্তিদের বিশেষ ভাবে পর্যবেক্ষন করার জন্য দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যাক্তিদের নির্দেশ দিয়েছেন।