বিশ্ব অর্থনীতি ফোরামের ভারত অর্থনৈতিক সম্মেলনে যোগদানের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী গেলো ৩ থেকে ৬ অক্টোবর চার দিনের সফরে নয়াদিল্লি যান। সেখানে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। সাক্ষর হয় সমঝোতাসহ ৭টি চুক্তি। এর আগে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে যোগ দিতে গেলো ২২ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফর বিষয়ে সারা দেশ ব্যাপী আলোচনার সৃষ্টি হয়। এরই প্রেক্ষিতে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের সব সমস্যার মূল সৃষ্টিকারী দেশ ভারত। এই দেশটিই সব সমস্যা একের পর এক তৈরি করছে। মনে হতে পারে, রোহিঙ্গা সমস্যা মিয়ানমার করেছে, কিন্তু না। রোহিঙ্গা সমস্যার মূল সৃষ্টিকারী হচ্ছে ভারত।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ভারতের সাথে সম্পাদিত ’দেশবিরোধী চুক্তি’ বাতিলের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এ মন্তব্য করেন। জাফরুল্লাহ বলেন, ১৯৭১ সালে ভারত আমাদের সহযোগিতা করেছে, তা আমরা সারাজীবন মনে রাখবো। কিন্তু তাদের নয় মাসের সাহায্যের বিনিময়ে আমরা তো সারাজীবন তাদেরকে দিয়ে যেতে পারবো না। গত ৪৭ বছরে আমরা ভারতকে যা দিয়েছি তারও একটা হিসাব নেওয়া দরকার।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার সব সময় মানবতার কথা বলে। কিন্তু দেশে মানবতা কোথায়? গণতন্ত্র নাই, মানু‌ষের অধিকার নাই, ৩০ তারিখের ভোট ২৯ তারিখ রাতে হয়ে যায়। স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার নাই, স্বাধীনভাবে কথা বললেই বুয়েটের ছা‌ত্রের মত পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি বলেন, ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচিত হবে। সন্ত্রাসী দল হিসেবে ছাত্রলীগ জাতির জন্য কখনোই মঙ্গলজনক না। এ সময় তিনি বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, প্রেসিনডিয়াম সদস্য নঈম জাহাঙ্গীর, আকতার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজি মো. নজরুল, বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহ-সভাপতি ফরিদ উদ্দিন, ইউনছ মৃধা, জিনাফ সভাপ‌তি লায়ন মিয়া মো. আনোয়ার, সংগঠনের ঢাকা মমহানগর সদস্য সচিব কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন ও ন্যাপ ভাসানীর মহাসচিব মো. গোলাম মোস্তফা আকন্দ প্রমুখ।

উল্লেখ্য, মোঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রখ্যাত বাংলাদেশী চিকিৎসক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং মুক্তিযোদ্ধা। তিনি "গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র" নামক স্বাস্থ্য বিষয়ক এনজিওর প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৮২ সালে প্রবর্তিত বাংলাদেশের ’জাতীয় ঔষধ নীতি’ ঘোষণার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি ১৯৭৭ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়াও তিনি ফিলিপাইন থেকে রেমন ম্যাগসাইসাই (১৯৮৫) এবং সুইডেন থেকে বিকল্প নোবেল হিসাবে পরিচিত রাইট লাভলিহুড (১৯৯২), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বার্কলি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ’ইন্টারন্যাশনাল হেলথ হিরো’ (২০০২) এবং মানবতার সেবার জন্য কানাডা থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন।