রাজধানীসহ সাড়া দেশ ব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ক্যাসিনো। এই ক্যাসিনো দমনে চলছে প্রসাশনের শুদ্ধি অভিযান। গত ১৮ সেপ্টেম্বর যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়াকে আটকের মধ্যে দিয়ে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে এই শুদ্ধি অভিযান। এরপর একে একে ধরা পড়েন জি কে শামীম, শফিকুল ইসলাম ফিরোজ, লোকমান ভূঁইয়াসহ আরও অনেকে। এই শুদ্ধি অভিযান এখনও চলছে। ভবিষ্যতেও চলবে। আসাদুজ্জামান খাঁন রাজনীতিবিদ ও স্বাধীনতা যুদ্ধের মুক্তিযোদ্ধা। তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য ও বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত মন্ত্রী। সম্প্রতি এই শুদ্ধি অভিযান, বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা, সরকার ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীসহ বেশ কিছু বিষয় নিয়ে কথোকপথন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জমান খাঁন কামালের সঙ্গে।
হঠাৎ করে কেন এই শুদ্ধি অভিযান? আর অভিযানের জন্য এই সময়টিকেই কেন বেছে নেয়া হয়েছে?

আসাদুজ্জমান খাঁন কামাল: অভিযানগুলো হঠাৎ করেই পরিচালনা হয়। সময় এবং দিন ঠিক করে অভিযান হয় না। অভিযানের কোন নির্দিষ্ট সময় নেই। আমাদের কাছে মনে হয়েছে এই সময় অভিযান জরুরি। তাই এখনই করা হচ্ছে।

সেতুমন্ত্রী গণমাধ্যমে বলেছেন, বিগত ও বর্তমান সময়ের বিরোদীদলের নেতাকর্মীদের উপরেও এই অভিযান চালানো হবে। বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখছেন এবং এই অভিযান কতদিন চলবে?

আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল: এই অভিযান কোন দল মতের জন্য না। কোন ব্যক্তিস্বার্থে এই অভিযান চলছে না। যেখানে দুর্নীতি সেখানেই অভিযান চলবে। সেটা যে দলের হোক।

আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, জি কে শামীমের মত এমন কত জনের তালিকা রয়েছে এবং এই অভিযানের মূল নেতৃত্ব দিচ্ছেন কে?

আসাদুজ্জমান খাঁন কামাল: দেখুন আমরা কারও নামের তালিকা করে অভিযান করছি না। জনগণ জানে অন্যায় কে করে, আর কে করে না। তাই সুনির্দিষ্ট ভাবেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে।

এই অভিযানের মাধ্যমে সরকার মূলত কি চাচ্ছে?

আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল: এই অভিযান কোন ব্যক্তি গোষ্ঠী বা কোন দলের বিরুদ্ধে নয়। এটা অপরাধীদের বিরুদ্ধে, দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। দুর্বৃত্তায়নের চক্র ভেঙে দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই এ উদ্যোগ নিয়েছেন এবং অভিযান শুরু করেছেন। নিজেদের ঘর থেকে শুরু করেছেন। ধীরে ধীরে সব অপরাধীদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঢাকার আলোচিত যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের গ্রেফতার নিয়ে নানান গুঞ্জন ও নাটকীয়তার সৃষ্টি হয়েছে এ বিষয়ে কিছু বলুন।

আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল: সম্রাটসহ পুরো বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেই দেখছেন। এরপর আর আমাদের এ বিষয়ে কিছু বলার থাকে না। তবে একটুকু বলতে পারি, অন্যায় যেই করুক না কেন, কোন ছাড় হবে না।

উল্লেখ্য, আসাদুজ্জামান খান মুক্তিবাহিনীর সদস্য ছিলেন। তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। খান ক্যাপ্টেন আব্দুল হালিম চৌধুরীর নেতৃত্বে সেক্টর ২-এ যুদ্ধ করেছিলেন। তিনি ২০০৯ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। ১২ জানুয়ারী ২০১৪ সালে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন। ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসাবে দায়িন্ত্ব পান।