নানা কারণে দুর্নীতি হতে পারে, কোনো একক উপাদানকে দুর্নীতির কারণ বলে উল্লেখ করা যায় না। ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেরা অবৈধ উপায়ে সুবিধা লাভ এবং কখনও কখনও একে দূষণীয় মনে না করে যেন অধিকার মনে করে। বর্তমান সমাজে দূর্ণীতি সমস্যাটি প্রকট আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্রী বেগম খালেদা জিয়া ও দূর্ণীতির অভিযোগে অভিযুক্ত। বর্তমানে তিনি দূর্ণীতির অভিযোগে কারাগারে বন্দী। বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত সমাবেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার জামিন পাওয়ার যে ন্যায্য অধিকার, সেই অধিকারেই মুক্ত হবেন। মিথ্যা মামলা দিয়ে আর যাই হোক, তাকে আটকে রাখা যাবে না।
এসময় তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কারও দয়ায় মুক্ত হবেন না। অবশ্যই তার জামিন পাওয়ার যে ন্যায্য অধিকার, সেই অধিকারেই মুক্ত হবেন তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার যখনই ক্ষমতায় এসেছে, তখনই গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করেছে। এটাই তাদের ইতিহাস। তাদের চরিত্রের মধ্যে গণতান্ত্রিকতা বলতে কিছু নেই। ৭৫ সালে বাকশাল সৃষ্টির মাধ্যমে একদলীয় শাসন চালু করতে চেয়েছিল। আজ কৌশল পাল্টে গণতন্ত্রের সব প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে দিয়ে ভিন্ন আঙ্গিকে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চলেছে।

তিনি বলেন, এই সমস্যা শুধু বিএনপির নয়, শুধু পেশাজীবীদের নয়। এই সমস্যা সারা বাংলাদেশের মানুষের। যে জন্য ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধ করেছিলাম, যার মূলমন্ত্রই ছিল গণতন্ত্র, সেই গণতন্ত্রকেই তারা ব্যাহত করছে। প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরের মাধ্যমে দেশের জনগণ সুখবর চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সীমান্তে হত্যা সমস্যার সমাধান হয় না, তিস্তার পানির সমস্যার সমাধান হয় না, ফারাক্কার বাঁধ খুলে দেয়ায় আমাদের বন্যা হয়ে যায় সেই সমস্যার সমাধান হয় না, বাণিজ্যের মধ্যে যে ভারসাম্যহীনতা আছে তার সমাধান হয় না। জনগণ চায় তিস্তাসহ সব অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা বাংলাদেশ পাবে। আমরা আশা করবো সীমান্তে যেন হত্যা বন্ধ হয়ে যায়।

প্রসঙ্গত, দুর্নীতি দেশ ও জাতির উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করে। দেশ থেকে দুর্নীতি নির্মূল করতে পারলে দেশ ও জাতির উন্নয়ন সম্ভব। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে সারা দেশ ব্যাপী এর প্রবনতা ছড়িয়ে পড়েছে। দেশ থেকে দুর্নীতি নির্মূল করার লক্ষ্যে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহন করা একান্ত প্রয়োজন।