বর্তমান সময়ে দেশ ব্যাপী তুমুল আলোচিত জি কে শামীম। রাজনীতির ছায়া তলে থেকে বহু দিন ধরে রাজধানী শহরে নানা অপকর্ম করছিল। প্রসাশনের অভিযানে একে একে তার সব অপকর্ম উন্মচিত হয়ে যায়। এই সকল অপরাধে তাকে গ্রফতার করা হয় এবং রিমান্ডে নেওয়া হয়। বুধবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, গোয়েন্দা সংস্থার কাছে জিজ্ঞাসাবাদে জি কে শামীম বলেছেন যে, আওয়ামী লীগের বর্তমান ও সাবেক ৭ মন্ত্রী এবং ২৩ এমপিকে তিনি নিয়মিত টাকা দিতেন। তারা ছিল যুবলীগ নেতা শামীমের ’বিজনেস পার্টনার’। আমাদের প্রশ্ন তারা কারা? নাম বলেন না কেন?
রিজভী আরো বলেন, রাজধানীতে গত ১৩ বছর যাবত ডজন ডজন ক্যাসিনো গড়েছে যুবলীগ ও তাদের গডফাদাররা, এই সরকারের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে দুর্বৃত্তরা টাকার কুমির হয়েছে। আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগের চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বৃত্তান্ত শুনে দেশবাসী অত্যুগ্র বিস্ময়ে হতবাক হয়েছে। দুর্নীতি, অনাচার, আর অনিয়মে গা ভাসিয়ে দিয়েছে। ফলে দুই একটা ছোট মাছ ধরে এই সরকারের রোগ সারানো সম্ভব নয়। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যালকুলেটেড এই অভিযানেও টাকার স্তুপের যে ছবি দেখা গেছে তা এই মধ্যরাতের নির্বাচনের সরকারের আসল প্রতিচ্ছবি। সুতরাং নিরপেক্ষ ও সুবিস্তৃত অভিযানে কত মনিমানিক্য ও স্বর্ণখনি পাওয়া যেতো তা সহজেই অনুমান করা যায়। এতদিন র‌্যাব-পুলিশ-দুদক ’সচেতন উদাসীনতায়’ এইসব দুর্বৃত্তদের ধরেনি। কেন ধরেনি? কারণ সর্ষের মধ্যেই ভূত রয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা আগেই বলেছিলাম, দুর্নীতির নামে কথিত অভিযান সম্পূর্ণ রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্যমূলক। ফলে গত ১৩ বছরে আওয়ামী লীগের ঝুড়ি থেকে মহাদুর্নীতির বাতাসা নয় বরং যখন বড় বড় চমচম বের হতে শুরু করেছে তখন সেটির দায় চাপানোর জন্য তারা লন্ডনের রাস্তা খুঁজে বেড়াচ্ছে। আমরা এতোদিন বলে আসছিলাম দুর্নীতি ও ক্যাসিনো বিরোধী এই তথাকথিত অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য বিএনপি এবং আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়ক ও জনগণের প্রাণপ্রিয় নেতা তারেক রহমান। সেই থলের বিড়ালটা এবার বের করলো। সেটাই আওয়ামী মন্ত্রী-নেতারা ব্রিফিংয়ে স্পষ্ট করলো। আওয়ামী লীগ অসততা ও নীতিপঙ্গুত্বতায় ভুগছে বলেই নিজেদের কালিমা অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে আত্মতৃপ্তি লাভ করতে চাচ্ছে।

রিজভী আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী বললেন, আইন তার নিজের গতিতেই চলবে। তাহলে কোন অপরাধীকে ধরার জন্য জাল ফেলে গ্রীন সিগনাল এর অপেক্ষা করতে হয় কেন? আসল কথা হলো-সরকার কথিত অভিযানের নামে মাঠে নেমে এখন না পারছে উঠে আসতে না পারছে রাঘব বোয়াল ধরতে। তাই এখন বিএনপি ও তারেক রহমানের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এখন তাদের সুর বদলে গেছে। ক্ষমতাসীনদের ঘরে ঘরে এখন টাকা গোনার মেশিন, সিন্দুক ভল্ট ভরা লুটপাটের অর্থ। বিদেশে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা পাচার করে দেশকে ফোকলা করে দিয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে দুর্নীতি হল দেশটির একটি চলমান সমস্যা, এছাড়াও দেশটি ২০০৫ সালে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল কর্তৃক প্রকাশিত তালিকায় পৃথিবীর তৎকালীন সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে স্থান লাভ করে। ২০১১ এবং ২০১২ সালে দেশটি তালিকার অবস্থানে যথাক্রমে ১২০ এবং ১৪৪ তম স্থান লাভ করে, যেখানে কোন দেশ নম্বরের দিক থেকে যত উপরের দিকে যাবে ততই বেশি দুর্নীতিগ্রস্থ হিসেবে গণ্য হবে।