সমাজে ঘুষ এর প্রবনতা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সমাজ ও জাতিকে ক্রমশ গ্রাস করছে ঘুষ প্রবনতা। প্রতিনিয়ত ঘুষের অভিযোগ উঠছে। সম্প্রতি, লক্ষ্মীপুরে ঘুষ না পেয়ে নামজারির খতিয়ান আটকে রেখে সহকারী অধ্যাপক আবু জাফর মো.কামাল উদ্দিনকে চার মাস ধরে হয়রানি করা হচ্ছে। কামাল উদ্দিন তেজগাঁও কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। সদর উপজেলার উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সোমবার দুপুরে উত্তর জয়পুর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে কর্মকর্তা শাহাদাতের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অবৈধ অর্থ লেনদেনের সত্যতা পাওয়া যায়। আজ মঙ্গলবার দুপুরে সুবেল আহমেদ দুর্নীতি দমন কমিশনের নোয়াখালি সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নোয়াখালী দুদক কার্যালয় সূত্র জানায়, শিক্ষক কামাল তার উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের ১১ শতক জমির নামজারির জন্য গত ২১ মে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে উত্তর জয়পুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা শাহাদাতের কাছে বিষয়টি তদন্তের জন্য পাঠানো হয়। এজন্য শাহাদাত ওই শিক্ষকের কাছ থেকে ফোন করে ৮ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে বিপক্ষে প্রতিবেদন দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। পরে শিক্ষক তাকে ৫ হাজার টাকা দেন। বাকি টাকা কাজ শেষ হলে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নামজারির খতিয়ান ও নোটিশের সরকারি ফি হচ্ছে এক হাজার ১৫০ টাকা। এদিকে, বাকি টাকা না দেয়ায় শাহাদাত খতিয়ান দেবে না বলে হমকি দেয়। এভাবে প্রায় দেড় মাস অতিক্রম হলেও কামাল নামজারির খতিয়ান পাননি। একপর্যায়ে হয়রানির শিকারের ঘটনায় শাহাদাতের বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই তিনি দুদকের নোয়াখালি সমন্বিত কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে, শাহাদাতের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রেকর্ড সংশোধন করে আবেদনকারীকে খতিয়ান দেওয়ার জন্য গত ১১ জুনে লক্ষ্মীপুর সদরের এসিল্যান্ড নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু বাকি টাকার জন্য কামালকে নামজারির খতিয়ান দেওয়া হয়নি। পরে তিন হাজার টাকা নিয়ে গত ২৯ আগস্ট কামালকে খতিয়ানটি দেওয়া হয়।

শিক্ষক আবু জাফর মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ভূমি কর্মকর্তা শাহাদাত জমির নাম জারি করতে আমার থেকে ৮ হাজার টাকা চেয়েছিলেন। টাকা দিতে দেরি হওয়ায় খতিয়ান দিবে না বলে হুমকি দেন। পরে টাকা দিয়ে আমাকে খতিয়ান আনতে হয়েছে। উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন বলেন, আমি কারো কাছ থেকে টাকা চাইনি। প্রভাষক কামাল তার জমির নামজারির জন্য এসিল্যান্ড অফিসে আবেদন করেছেন। সেখান থেকে আমাকে কাজটি করে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। আমি তার থেকে খতিয়ান ও নোটিশের সরকারি ফি নিয়েছি। বাড়তি কোনো টাকা নেওয়া হয়নি। প্রভাষকের সঙ্গে খতিয়ান নেওয়ার সময় দেখা হয়েছিল। এর আগে কখনো দেখা হয়নি। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাহমিদা মোস্তফা বলেন, দুদকের অভিযানের বিষয়টি আমি শুনেছি। এখনো আমাকে অফিসিয়ালভাবে জানানো হয়নি। এ নিয়ে কোনো চিঠি আসলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতি দমন কমিশনের নোয়াখালি সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক সুবেল আহমেদ বলেন, ভূমি কর্মকর্তা শাহাদাতের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অবৈধ অর্থ লেনদেনের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রতিবেদন পাঠানো হবে। প্রসঙ্গত, ঘুষের প্রবনতা রোধ করতে পারলে সমাজ ও জাতির উন্নয়ন সম্ভব। এরই ভিত্তিতে সরাকারী ভাবে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহন কারা হয়েছে। সেই লক্ষ্যে নিরলস ভাবে কাজ করছে সরকার।