ইডটকো টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান। ২০১৭ সাল থেকে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কার্বন নিঃসরণে মাত্রা কমিয়ে আনছে। ২০১৭ সালে কোম্পানিটি কার্বন নিঃসরণে মাত্রা ৪৪ শতাংশ কমিয়ে নিয়ে আসে এবং ২০১৮ সালে এই মাত্রা কমিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে ৪৮ শতাংশে। পৃথিবীব্যাপী দেশগুলো ডিজিটাল এজেন্ডা মেটাতে তাদের প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করছে। এর ফলে বৃদ্ধি পাচ্ছে নিরবিচ্ছন্ন যোগাযোগ স্থাপনের চাহিদা এবং পরিবেশবান্ধব শেয়ারযোগ্য টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর চাহিদা। টাওয়ার অবকাঠামোর ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত ইডটকো অনেকগুলো টেকসই ডিজাইন সম্বলিত টাওয়ার স্থাপন করেছে এবং এসকল টাওয়ার সচল রাখার জন্য ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার। এছাড়াও সামগ্রিক কার্বন নিঃসরণের মাত্রা কমিয়ে আনতে কোম্পানিটি চার স্তম্ভ বিশিষ্ট টাওয়ার তৈরি করা থেকে সরে এসে তিন স্তম্ভের টাওয়ার স্থাপন করছে। সম্প্রতি, বাঁশ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে মোবাইল ফোনের টাওয়ার। রাজধানী ঢাকার উত্তরায় একটি বাড়ির ছাদে পরীক্ষামূলকভাবে পরিবেশ-বান্ধব প্রযুক্তি হিসেবে ইডটকো গ্রুপ টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান এটি তৈরি করেছিলো।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদের নেতৃত্বে একটি দল ইস্পাতের বিকল্প হিসেবে অবকাঠামো নির্মাণের উপাদান হিসেবে বাঁশের ব্যবহারের ওপর গবেষণা করে।
ড. আহমেদ বলেন, টেলিযোগাযোগ টাওয়ার তৈরির জন্য বাঁশ একটি ভালো পরিবেশবান্ধব এবং সহজলভ্য উপাদান হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, কাঁচা বাঁশকে প্রক্রিয়াজাত করে এরকম টাওয়ার তৈরি করা সম্ভব, এবং তা ২১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাতাসের গতি সহ্য করতে পারে। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করলে বাঁশের টাওয়ার ১০ বছর পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে। তারা বলছেন, একটি টাওয়ার তৈরি করতে সময় লাগবে মাত্র ১২ দিন। একটি টাওয়ারে সর্বোচ্চ আটটি টাওয়ার স্থাপন করা যাবে। প্রসঙ্গত, অবকাঠামো তৈরিতে তুলনামূলক হালকা কার্বন ফাইবার ব্যবহার, যা সাইটপ্রতি কার্বন নিঃসরণের মাত্রা কমিয়েছে ২০ শতাংশ। এছাড়াও বাঁশ দিয়ে টাওয়ার নির্মাণ। এক্ষেত্রে কার্বন নিঃসরণ কমেছে ৭০ শতাংশ। এখন পর্যন্ত ইডটকো ১৫টি বাঁশের টাওয়ার এবং ৯টি কার্বন ফাইবার টাওয়ার নির্মাণ করেছে। এছাড়াও, অন্যান্য বাজার যেমন, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, কম্বোডিয়াতে স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত বাঁশ দিয়ে টাওয়ার নির্মাণ করা যায় কিনা সে সংক্রান্ত বিষয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। বাঁশ দিয়ে নির্মাণকৃত এসকল টাওয়ার ষ্টীলের তৈরি অবকাঠামোর তুলনায় ৮০ শতাংশ হালকা এবং এটি সহজেই বিল্ডিং এ স্থাপন করা যায়।