আক্তারুজ্জামান আক্তার পারিবারিকভাবেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ। এমনকি আক্তারের বাবা মনছুর আলী এবং বড়ভাই আব্দুস সাত্তার হত্যা, ডাকাতিসহ একাধিক মামলার আসামি ছিলেন। কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানার বাগুলাট ইউনিয়নের বাঁশগ্রামের বাসিন্দা আক্তারুজ্জামান আক্তার। ১৯৯৭ সালে প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত হন আক্তারুজ্জামান আক্তারের বাবা মনছুর। ২০১০ সাল থেকে বড় ভাই সাত্তার নিখোঁজ রয়েছেন। বাবা ও ভাইকে অনুসরণ করে এরই মধ্যে হত্যা-অপহরণসহ একাধিক মামলার আসামি হয়েছে আক্তার। সম্প্রতি আরও একটি হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে তাকে। এরপর থেকে গ্রেফতার এড়াতে সে পালিয়ে বেড়াচ্ছে বলে দাবি পুলিশের। অথচ পলাতক এই আসামিকে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে একজন বিচারকের সঙ্গে। নিজের ফেসবুকে আক্তারকে নিয়ে তোলা ছবিও পোস্ট করেছেন ওই বিচারক। হত্যা মামলার পলাতক আসামির সঙ্গে বিচারকের এমন সখ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাঁশগ্রামের মানুষ। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। আসামী বিচারকের সাথে থাকায় সঠিক বিচার কার্য নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে বাঁশগ্রামের মানুষ এর মধ্যে।
সংশ্নিষ্টরা জানান, ২০ জুন বাঁশগ্রামে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মী আজম মুন্সীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ২১ জুন কুমারখালী থানায় দায়ের হওয়া মামলার চার নম্বর আসামি আক্তার। হত্যাকাণ্ডের পরপরই গা ঢাকা দেয় সে। ঘটনার ১৩ দিন পরও তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে গত ১ জুলাই হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এসএম নাসিম রেজা তার ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করেন। ছবিতে নাসিম রেজার পাশে দেখা যায় আক্তারকে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কুমারখালী থানার ওসি এসএম মিজানুর রহমান। তিনি জানান, খবর পাওয়ার পর আক্তারকে ধরতে মামলার নথিপত্র হবিগঞ্জ সদর থানার ওসির কাছে পাঠানো হয়েছে। হবিগঞ্জ সদর থানার ওসি সহিদুর রহমান জানান, মামলার কাগজ হাতে পেয়েছেন। আসামিকে ধরতে কাজ চলছে।

এদিকে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, বিচারক নাসিম রেজার সঙ্গে আক্তারের ঘনিষ্ঠতা অনেক দিন ধরেই। ২০১০ সালের দিকে নাসিম রেজা কুষ্টিয়া এবং পরে মেহেরপুরে কর্মরত ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে তার সঙ্গে আক্তারের আরও একাধিক ছবিও দেখা গেছে। বাগুলাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিনের অভিযোগ, বিচারক নাসিম রেজার নাম ভাঙিয়ে আক্তার অপকর্ম করে বেড়ায়। ওই বিচারকের সহায়তায় আক্তার একাধিক মামলায় জামিন ও খালাস পেয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সম্প্রতি সরকার নতুন গাড়ি দিয়েছে। ওই গাড়ি আনতে ঢাকায় গিয়ে আক্তারের সঙ্গে দেখা হয়। নতুন গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে একটি ছবি তুলে নিজেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেছেন বলে জানান হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এসএম নাসিম রেজা। তিনি আরো বলেন, ঢাকায় আক্তার আমার সঙ্গেই ঘুরেছে। এরপর সে কোথায় গেছে তা জানা নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় বাঁশগ্রামের এক সহপাঠীর মাধ্যমে আক্তারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। আক্তারকে তিনি ছোট ভাইয়ের মতোই জানেন। কিন্তু সে যে হত্যা মামলার পলাতক আসামি তা জানা ছিল না বলে দাবি করেন এই বিচারক। আক্তারের সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি তাকে।