ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ার নরসুন্দর শেফালী রানী। অভাব অনটনের মধ্যেই কাটে দিন। কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় তার এই খবর। এমন সংবাদ প্রচারিত হওয়ার পর নরসুন্দর শেফালী রানীকে জমি ও ঘর দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান এমপি কাঁঠালিয়ার দোগনা গ্রামে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে জমির দলিল তুলে দেন শেফালী রানীর হাতে। এই তাকে চার শতাংশ জমিতে তিনলাখ টাকা ব্যয়ে একটি একতলা ভবন করে দেওয়া হবে। এমন সুসংবাদ শুনে শেফালী রানী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন শেখ হাসিনার প্রতি।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, শেফালী রানীর দুরবস্থার কথা গণমাধ্যমে তুলে ধরায় বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এসেছে। প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের খবর রাখেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর নির্দেশে শেফালী রানীকে চার শতাংশ জমি ও একটি ভবন নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। পরে দোগনা বাজারে সুধিজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুল রহমান।

জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান এমপি। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালায়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মোহসীন, ঝালকাঠির পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিন ও কাঁঠালিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এমাদুল হক মনির ও শৌলজালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. মাহামুদুর রহমান রিপন।

শেফালী রানী শীল (৫০) অসহায় হয়ে পড়েন ১৫ বছর আগে স্বামী নিরুদ্দেশ হওয়ার পর। অভাবেই কাটছে তার দিন। পাঁচ ছেলে মেয়ের লেখাপড়া ও সংসার চালানো দায় হয়ে পড়ে তার। অন্যের বাড়িতে বাধ্য হয়ে কাজ শুরু করেন। সেখান থেকে যে টাকা পাওয়া যেতো, তা দিয়ে কোনো রকমের খাবার ঝুটতো। ছয় সদস্যের এ পরিবারের কখনো একবেলা খেয়ে পুরো দিন কাটতো। অবশেষে কোন উপায় না পেয়ে মহিলা মানুষ হয়ে ও স্বামীর পেশাকেই বেছে নিলেন তিনি। ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার দোগনা গ্রামের শেফালী রানী সেই থেকে ১৫ বছর ধরে পুরুষের চুল দাড়ি কাটছেন। দোগনা বাজারে এক প্রবাসীর ঘরের বারান্দায় তিনি সেলুন দেন। ছয় সদস্যর সংসার এ কাজেই চলছে তার। অভাব অনটনের মধ্যে সামান্য আয়ে কেটে যাচ্ছিল তার ছয় সদস্যর সংসার।