লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বিয়ের দাবিতে কলেজ ছাত্র প্রেমিকের বাড়িতে ২০ ঘন্টা বিষের বোতল হাতে নিয়ে অনশন শেষে রিনা আক্তার নামে এক প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা (২৫) পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কেরোয়া ইউনিয়নের মধ্যে কেরোয়া গ্রামের কেরামত আলী মুন্সী বাড়িতে।

স্কুল শিক্ষিকা রিনা উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের আব্বাস আলী ব্যাপারী বাড়ির দ্বীন ইসলামের মেয়ে ও চরআবাবিল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা।

প্রেমিক কলেজ ছাত্র তৌহিদ হোসেন সাগর কেরোয়া ইউনিয়নের লামচরি গ্রামের মুন্সি বাড়ির নূর নবীর ছেলে ও ঢাকা কলেজের হিসাব রক্ষক বিভাগের অনার্সে পড়ুয়া।

এলাকাবাসী জানান, শিক্ষিকা রিনা বেগমের সাথে গত ৪ বছর ধরে সম্পর্ক চলে আসছিল সাগরের। গত বছর পারিবারিক কলহের জের ধরে রিনাকে তার স্বামী তালাক দেন। গত ৬ মাস আগে বিয়ের দাবীতে সাগরের বাড়িতে অনশন করে রিনা আক্তার। সে সময় পারিবারিক সম্মতিক্রমে বিয়ে করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিলে রিনা তার বাড়ি চলে যায়। এক পর্যায়ে সাগর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েটির সাথে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়িয়েছেন। ওই শিক্ষিকা বিয়ের জন্য সাগরকে চাপ দিলে সে বিভিন্নভাবে টালবাহানা করে এড়িয়ে যায়। পরে বাধ্য হয়ে শুক্রবার বিকেল ৪টায় রিনা তার প্রেমিক সাগরের বাড়িতে গিয়ে বিষের বোতল হাতে নিয়ে বিয়ের দাবীতে অনশন শুরু করে। ঘটনাটি গভীর রাত পর্যন্ত উভয় পরিবারের মিমাংসা না হওয়ায় থানা পুলিশ রিনাকে উদ্ধার করে শনিবার দুপুরে থানায় নিয়ে আসে।

শিক্ষিক রিনা আক্তার জানান, সাগর তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দৈহিক মেলামেশা ও আর্থিক সুবিধা নিয়েছে। কিন্তু সাগর বিয়ে না করায় প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে গড়িমসি করলে তার বাড়িতে গত ২০ ঘন্টা ধরে অনশন করি। শনিবার দুপুরে উভয় পক্ষের মিমাংসার কথা বলে থানা পুলিশ আমাকে থানায় নিয়ে আসে।

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে সাগরের মোবাইলে একাধিক ফোন করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে তার বড় ভাই ছাত্রলীগ নেতা বলেন, আমার ভাইকে ফাঁসানোর জন্য ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।

কেরোয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাজাহান কামাল বলেন, উভয় পরিবারের সাথে ঘটনাটি মিমাংসা করার জন্য শনিবার সকাল ১১টা পর্যন্ত চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। শনিবার দুপুরে মেয়েটিকে থানায় নিয়ে গেছেন পুলিশ।

রায়পুর থানার ওসি একেএম আজিজুর রহমান মিয়া বলেন, ঘটনাটি শুনে মেয়েটিকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে উভয় পরিবারের সাথে কথা বলে মিমাংসার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সূত্র:বিডি২৪লাইভ